স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে পারিবারিক কলহের এক মর্মান্তিক পরিণতিতে প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের তিনজন। বন্ধ ঘরের ভেতর থেকে সৌদি প্রবাসী স্বামী, তাঁর স্ত্রী এবং দেড় বছর বয়সী ফুটফুটে এক কন্যাসন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার বারাহী জান্নাকান্দি গ্রাম থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— বারাহী জান্নাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সৌদিস ফেরত আকরাম হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) এবং তাঁদের দেড় বছরের শিশুসন্তান আলিজা আক্তার।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আকরাম হোসেন ইতিপূর্বে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম স্ত্রী তাঁকে ত্যাগ করার পর তিন বছর আগে সিঙ্গাইর উপজেলার ভূমদক্ষিণ গ্রামের প্রিয়াঙ্কা আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর পুনরায় প্রবাসে চলে যান এবং দুই মাস আগে দেশে ফেরেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর থেকেই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই হাতাহাতি ও গৃহবিবাদ লেগে থাকত।
শুক্রবার রাতে নৈশভোজ শেষে তাঁরা টিনের চৌচালা ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন শনিবার বেলা ১১টা বাজলেও ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজনরা ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়া না মেলায় একপর্যায়ে ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর শিশুসন্তানকে খাটের ওপর নিথর এবং আকরামকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা।
খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
নিহত প্রিয়াঙ্কার বোন মিশু আক্তারের অভিযোগ, প্রিয়াঙ্কাকে তাঁর স্বামী প্রায়ই মারধর করতেন। এমনকি দু-তিন দিন আগেও তুচ্ছ কারণে মারধর করে তাঁর মুখ জখম করা হয়েছিল, যার ছবি প্রিয়াঙ্কা মৃত্যুর আগে স্বজনদের মোবাইলে পাঠিয়েছিলেন।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, “প্রাথমিক পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে— গৃহবিবাদের একপর্যায়ে স্ত্রীকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত ও শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আকরাম। মরদেহগুলো মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পরই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।” ফাইল ছবি সংগৃহীত।
