স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় একটি দ্রুতগতির মাছবাহী পিকআপের বেপরোয়া ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা মা ও তাঁর চার বছরের শিশুসন্তান ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে হাসপাতালে মারা গেছেন। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক স্বামীও আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) রাত পৌনে আটটার দিকে মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ হানুয়ার বটতলা এলাকার আঞ্চলিক সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মা ও শিশু হলেন—যশোরের হানুয়ার গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী মৌসুমী (৩২) এবং তাঁদের চার বছর বয়সী শিশুপুত্র আবদুর রহমান।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে ওমর ফারুক তাঁর স্ত্রী মৌসুমী ও শিশুপুত্র আবদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে নিজের মোটরসাইকেলে চড়ে যশোর শহর থেকে নিজ বাড়ি হানুয়ারে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তাঁদের মোটরসাইকেলটি মণিরামপুর থানাধীন রাজগঞ্জ হানুয়ার বটতলা এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসা একটি মাছবাহী পিকআপভ্যান তাঁদের সজোরে ধাক্কা দেয়। পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে জখম হন।
স্থানীয় লোকজন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাঁদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মা মৌসুমী ও শিশু আবদুর রহমানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় সামান্য আহত পিতা ওমর ফারুককে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু সাঈদ গণমাধ্যমকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে খোঁজখবর নিয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
