বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা রুটে প্রভাতী ট্রেন চালুর দাবিতে স্মারকলিপি পেশ

বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা রুটে প্রভাতী ট্রেন চালুর দাবিতে স্মারকলিপি পেশ

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

বেনাপোল-যশোর-ঢাকা এবং দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে ‘প্রভাতী এক্সপ্রেস’ ট্রেন চালুসহ মোট ৬ দফা দাবিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়। সংগঠনটির আহ্বায়ক কাওসার আলী এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন যৌথভাবে এই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পদ্মা সেতু দিয়ে রেলযোগাযোগ প্রকল্প চালু হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মাঝে রাজধানী ঢাকায় দ্রুত ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের দারুণ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বেনাপোল-যশোর-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ট্রেনের বিদ্যমান সময়সূচির কারণে যাত্রীদের ঢাকায় দাপ্তরিক কাজ বা জরুরি ব্যক্তিগত কাজ সম্পন্ন করে একই দিনে নিজ এলাকায় ফিরে আসা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। একইভাবে দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ এলাকার মানুষও এই রুটে পর্যাপ্ত রেলসেবা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সংগঠনটির জোরালো দাবি, সকালে ঢাকাগামী একটি ট্রেন চালু করা হলে যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলাসহ আশপাশের এলাকার যাত্রীরা রাজধানীতে গিয়ে একই দিনে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে নির্বিঘ্নে ফিরে আসতে পারবেন। এর ফলে একদিকে যেমন যাতায়াতের বহুমুখী সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে, অন্যদিকে রাজধানীর ওপর বাড়তি জনচাপও অনেকটা কমে যাবে।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ৬ দফা দাবির মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো— ১. বর্তমান ট্রেনের নির্ধারিত সময়সূচি সম্পূর্ণ বহাল রেখে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা এবং দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে নতুন করে ‘প্রভাতী এক্সপ্রেস’ ট্রেন চালু করা। ২. ঢাকা ও খুলনার মধ্যে প্রতিদিন নিয়মিত যাতায়াত করে নিরাপদে অফিস করার উপযোগী উপযুক্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা। ৩. আন্তঃনগর ট্রেনের বহরে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের জন্য সুলভ মূল্যের সাধারণ শ্রেণির বগি সংযোজন করা। ৪. স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফুল, ফল, শাকসবজি ও মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুত পরিবহনের উপযোগী বিশেষ পার্সেল বগি যুক্ত করা। ৫. সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে যাত্রীবাহী বাস ভাড়ার তুলনায় কম বা যৌক্তিক রেলভাড়া নির্ধারণ করা। ৬. অনলাইন নিবন্ধনের জটিলতার বাইরে সাধারণ যাত্রীদের জন্য সরাসরি টিকিট সংগ্রহের কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা এবং প্রবীণ নাগরিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

এছাড়া স্মারকলিপিতে দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত অবশিষ্ট ডাবল রেললাইন নির্মাণের চলমান কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহনের উপযোগী বিশেষ বগি যুক্ত করা হলে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন। পাশাপাশি সাশ্রয়ী ভাড়ায় নিরাপদ ভ্রমণ এবং সহজে টিকিট প্রাপ্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষের সামগ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থা আরও অনেক বেশি সহজ ও জনবান্ধব হবে। অঞ্চলের দীর্ঘদিনের এই যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *