ঝিকরগাছায় থানায় ঘুষ না দেওয়ায়  আসামির ভাইকে মারধরের অভিযোগ

ঝিকরগাছায় থানায় ঘুষ না দেওয়ায় আসামির ভাইকে মারধরের অভিযোগ

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোরের ঝিকরগাছা থানায় ঘুষের টাকা না পেয়ে এক আসামির ভাইকে থানায় ডেকে নিয়ে মারধর এবং নগদ অর্থ ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম মো. আশরাফুল আলম, যিনি ঝিকরগাছা থানায় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের উচ্চ মহলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান ঝিকরগাছা পৌর সদরের কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা মোজাফ্ফর সরদারের সন্তান। তিনি প্রতিকার চেয়ে যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারণ সার্কেল) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রের বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ২৩ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে এএসআই আশরাফুল আলম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আসাদুজ্জামানের বাড়িতে হানা দেন। পরিবারের দাবি, কোনো ধরনের আইনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রদর্শন না করেই তারা বসতঘরে জোরপূর্বক তল্লাশি চালান। ওই সময় খোঁজাখুঁজির পর আসাদুজ্জামানের বড় ভাই মো. রেজাউল করিমকে বাড়িতে পাওয়া না গেলে পুলিশ সদস্যরা আসাদুজ্জামানের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে চলে যান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে পুলিশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে হুমকি দেয় যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দশ হাজার টাকা না দিলে তার বড় ভাইকে মিথ্যা বা অন্য কোনো পুরনো মামলায় ফাঁসিয়ে আদালতে চালান করে দেওয়া হবে। এরপর গত ২৪ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের ফোন পেয়ে আসাদুজ্জামান ঝিকরগাছা থানায় হাজির হন।

আসাদুজ্জামান দাবি করেছেন, তিনি থানায় পৌঁছানোর পর এএসআই আশরাফুল তাকে সোজা থানার হাজতখানার সামনে নিয়ে যান এবং আটক ব্যক্তির মুক্তির কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে হাজতের সংলগ্ন একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পকেটে থাকা নগদ টাকা, ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলের চাবি জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়। এহেন আচরণের প্রতিবাদ জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয় এবং আরও বেশি অর্থ আদায়ের জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনার পাশবিক চিত্র ও দৃশ্য থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত রয়েছে। তারা কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনীত যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত এএসআই মো. আশরাফুল আলম। তার ভাষ্যমতে, রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে পূর্বে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। পরদিন সকালে তার ভাই আসাদুজ্জামান থানায় এসে হাজতখানায় আটক থাকা রেজাউলের হাতে একটি মুঠোফোন তুলে দেন। হাজতের ভেতরে মোবাইল ফোন সরবরাহ করা যে সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত ও অপরাধ, তিনি কেবল সেটিই তাদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে মারধর, টাকা বা অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা পুরোপুরি বানোয়াট।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারণ সার্কেল) মো. আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ হাতে পাওয়া গেছে। ওই সময়ের থানার ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সার্বিক দিক খতিয়ে দেখতে বর্তমানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

যশোরে ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে যশোরে জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির ব্যাপক লিফলেট বিতরণ

বেনাপোল-যশোর-ঢাকা প্রভাতী ট্রেন চালুর দাবিতে আগামীকাল যশোরে প্রতীকী রেল অবরোধ কর্মসূচি

যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে ছাত্রদলের কর্মীসভা

যশোরে একদিনে মাদক ও চুরির অপরাধে চারজনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

যশোর শহরের তেঁতুলতলায় নসিমন ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ : আহত ৩

মণিরামপুরে মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টা, চোর চক্রের তিন সদস্য আটক

মণিরামপুরে মানবপাচার থেকে উদ্ধারকৃতদের পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণে সমন্বয় সভা

ঝিকরগাছায় মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ : তদন্ত কমিটি গঠন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *