স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে মারধর ও কোপানোর ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ বছর বয়সী স্বাধীন নামের এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে নিহত স্বাধীনের মা সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি রুজু করেন। তবে ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি।
মামলার এজাহারের তথ্যমতে, গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে স্বাধীন তার বন্ধু জাহার ফুয়াদ ওরফে জীবনকে সাথে নিয়ে বারান্দী মোল্লাপাড়া এলাকায় পূজা দেখার উদ্দেশ্যে যায়। সেখানে একটি মন্দিরের পাশের গলিতে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে ওয়াই-ফাই সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করছিল তারা। এ সময় হঠাৎ স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি চুরির অপবাদ এনে তাদের সাথে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ায় এবং একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্বাধীনকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে স্বাধীনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে মারাত্মক ও রক্তক্ষয়ী জখম হয়। এ সময় আক্রান্ত স্বাধীনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার বন্ধু জীবনকেও বেদম মারধর করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে স্বজনেরা মুমূর্ষু অবস্থায় স্বাধীনকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে রাজধানীর ঢাকা হোম কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২০ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে মৃত্যুর কাছে হার মানে স্বাধীন।
দায়েরকৃত মামলার অভিযুক্ত এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন বারান্দী মালোপাড়ার বাসিন্দা রেজা, তাঁর শাশুড়ি ওলি, রনি, রনির বাবা আলী, পার্থ এবং নারায়ণ।
হত্যাকাণ্ড ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক চৌকস টিম মাঠে কাজ করছে। ছবি সংগৃহীত।
