প্রেমিকের ফাঁদে পড়ে তরুণী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার

প্রেমিকের ফাঁদে পড়ে তরুণী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় প্রেমিকের পূর্বনির্ধারিত আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেখা করতে গিয়ে এক তরুণী (১৯) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী তরুণীর সাহসিকতাপূর্ণ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান প্রেমিকসহ মোট তিন যুবককে আটক করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে, উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামস্থ ঈদগাহ মাঠের ফাঁকা এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণী পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্বপরিচিতির সূত্রে কেন্দুয়া উপজেলার কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লালের (২২) সাথে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই সম্পর্কের টানেই গত শনিবার রাতে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ থেকে ছুটে আসেন কেন্দুয়ায়। প্রেমিক বিল্লালের পূর্বনির্ধারিত আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি কাশিপুরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে দেখা করতে যান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে প্রেমিক বিল্লাল সুকৌশলে ওই তরুণীকে স্থানীয় কাশিপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা তাঁর দুই বন্ধু—হারুন (২৭) ও রুবেলকে (২৫) ডেকে নেন। এরপর তিন বন্ধু মিলে পৈশাচিক কায়দায় ওই তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। পাশবিক নির্যাতন শেষে তাঁরা ভুক্তভোগীকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে ভুক্তভোগী তরুণী রাতেই সাহসিকতার সাথে কেন্দুয়া থানায় উপস্থিত হন এবং প্রেমিক বিল্লালসহ তিনজনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তরুণীর এই অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকারের তত্ত্বাবধানে রাতেই পুলিশ দল গঠন করে এবং রবিবার ভোরে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটককৃত তিনজনই পেশায় ভ্যানচালক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁরা হলেন—বিল্লাল (২২), হারুন (২৭) এবং রুবেল (২৫), যাঁদের বাড়ি কেন্দুয়ার কাশিপুর গ্রামেই।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার গণমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় আটককৃত তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ রবিবার দুপুরে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *