স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলাধীন সখীপুরের ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিঞার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ কার্যকর করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নিজ সহকর্মীর সাবেক স্ত্রীর সাথে অনৈতিক যোগসাজশ এবং পেশাগত পদমর্যাদার অপব্যবহারের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় এ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ ঢাকা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় এই চূড়ান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে স্বাক্ষর করেন ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আব্দুল আজিজ।
বিজ্ঞাপন
প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ তদন্ত সূত্র জানায়, উক্ত স্কুলের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মোল্লার পারিবারিক জীবনে অসন্তোষ সৃষ্টি এবং তাঁর সাবেক স্ত্রী শাহানাজের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমু (Imo)-তে আপত্তিকর ও অসংলগ্ন চ্যাটিংয়ের সত্যতা মেলে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষকের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে, যা পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলার রূপ নেয়।
ঘটনাসূত্রে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গঠন করা তদন্ত প্যানেল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি লিখিত জবাব পেশ ও ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিলেও তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণের যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ উঠে আসে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হলে তাঁর প্রদত্ত লিখিত কৈফিয়ত গ্রহণযোগ্য মনে করেনি অধিদপ্তর। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে শৃঙ্খলা বিধিমালার গুরুতর অপরাধের আওতায় তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরের দণ্ড দেওয়া হয়।
বিভাগীয় এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিঞা জানান, শাস্তির বিষয়ে তিনি এখনো কোনো লিখিত আদেশের কপি হাতে পাননি।
এদিকে শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিভাগীয় দপ্তর থেকে প্রেরিত দাপ্তরিক নির্দেশনামা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন এবং বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। ছবি সংগৃহীত।


