জীবননগরে পুলিশ সুপারের হাত ধরে ১৬ মাদক কারবারির আত্মসমর্পণ

জীবননগরে পুলিশ সুপারের হাত ধরে ১৬ মাদক কারবারির আত্মসমর্পণ

জীবননগর  সংবাদদাতা :

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানা এলাকায় চুরি, ডাকাতি, চোরাচালান, মানবপাচার, কিশোরগ্যাং, জুয়া এবং সর্বোপরি মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে আয়োজিত হলো এক স্মরণীয় মাদকবিরোধী সমাবেশ ও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধের অন্ধকার জগত ত্যাগ করে স্বাভাবিক ও সৎ জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে মোট ১৬ জন চিহ্নিত মাদক কারবারি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন।

২৪ আগস্ট ২০২৬ সোমবার বিকেল ৫:০০ ঘটিকায় জীবননগর থানাধীন সীমান্ত ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া হালসানা মোড়ে জীবননগর থানা পুলিশ ও ৪নং সীমান্ত ইউনিয়নবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “মাদক কোনো একটিমাত্র ব্যক্তির ক্ষতি করে না; এটি একটি পরিবার, সমাজ ও পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধংস করে দেয়। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশাসনিক পদক্ষেপ দিয়ে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়—এর জন্য সর্বস্তরের জনগণের সামাজিক আন্দোলন ও সম্মিলিত প্রতিরোধ প্রয়োজন।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “যারা ভুল পথ অনুধাবন করে সৎ ও শান্তিময় জীবনে ফিরতে চায়, সমাজ ও পুলিশ তাদের স্বাগত জানাবে। কিন্তু যারা অপকর্ম ও মাদকের ব্যবসা অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ কোনো প্রকার ছাড় দেবে না এবং জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে।”

অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন পরিবেশে ১৬ জন আত্মসমর্পণকারী মাদক কারবারিকে স্থানীয় প্রশাসন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা ফুলের শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় তাদেরকে ভবিষ্যতে কখনো মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ বা সেবনের সাথে যুক্ত না থাকার এবং সমাজের ইতিবাচক উন্নয়নে কাজ করার শপথ পাঠ করানো হয়।

সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা মাদকাসক্তি, কিশোরগ্যাং, জুয়া ও সীমান্ত এলাকার চোরাচালানের মতো ব্যাধিগুলোর বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন মিডিয়া কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ আশা প্রকাশ করে যে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এ ধরনের সংশোধনমূলক উদ্যোগ একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত ও শান্তিময় সমাজ গঠনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *