স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
নারী শিক্ষার বিস্তার, ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামানো এবং তরুণ সমাজকে প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের ৭০ লাখ শিক্ষার্থীকে বিশেষ বৃত্তির আওতায় আনার পাশাপাশি ২০২৬ সালের গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার সফল ও মেধান্বী শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দেওয়ার জোরালো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম কার্যবিবরণী পর্যালোচনা থেকে এই মহতী উদ্যোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
কমিটির তথ্য মতে, নারী শিক্ষার্থীদের এই বিশাল মেগা বৃত্তির আওতায় আনতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জন ও আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী করতে গোল্ডেন জিপিএ প্রাপ্তদের দেওয়া হবে ডিজিটাল উপহার ল্যাপটপ। বিতরণ প্রক্রিয়া ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাবলী খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া জানান, কেবল পাশ বা সিজিপিএ বাড়লেই শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন হয় না, দরকার প্রকৃত শিখনফল ও শিক্ষার বিশ্বমান নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যোগ্যতার পরিমাপ করতে বছরভিত্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রতি ৩ বা ৬ মাস পরপর নিবিড় যাচাই পদ্ধতির প্রস্তাব আনা হয়েছে।
ইতোমধ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের রূপরেখা তুলে ধরেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে প্রায় ৪২.৭ শতাংশ বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও অবসর সুবিধা পরিশোধের বিষয়েও শুভ বার্তা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শিক্ষকদের কষ্ট লাঘবে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রথম ধাপে প্রবীণ শিক্ষকরা গড়ে ৫ লাখ টাকা করে পাবেন। একই সাথে কোন মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইএফটি এবং আইবাস ব্যবস্থার মাধ্যমে পৌঁছে যাবে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদী ও মো. মুজিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত এমপিওভুক্ত করা এবং শিক্ষক হয়রানি বন্ধে মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের জোর দাবি জানান।
অন্যতম সদস্য রেজা কিবরিয়া জোর দিয়ে বলেন, বিজ্ঞান ও গণিতে যেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমঞ্চে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সূচকের আদলে মূল্যায়ন চালু করা দরকার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকার বা ব্যক্তির পরিবর্তনের সাথে যেন দেশের শিক্ষানীতি ও মৌলিক পাঠ্যক্রম বার বার বদলে না যায়, সে জন্য মালয়েশিয়ান মডেলের আদলে একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় শিক্ষানীতি ও রোডম্যাপ প্রণয়ন করা সময়ের অন্যতম দাবি। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

