বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মধ্যেই এলপিজির বাড়ানোর পাঁয়তারা!

বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মধ্যেই এলপিজির বাড়ানোর পাঁয়তারা!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত দর নির্ধারণের নিয়ম থাকলেও দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কার্যত লাগামহীন। নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে যখন ইচ্ছেমতো চড়া দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নিজেদের মুনাফা ও কমিশন আরও বহুগুণ বাড়িয়ে নিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার বিয়াম মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) উদ্যোগে এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিইআরসির কাছে জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলোতে আমদানিকারক ও পরিবেশকেরা চরম মাত্রায় কমিশন বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ১২ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডারে মোট ১৯১ টাকা কমিশন নির্ধারিত থাকলেও, ওমেরা গ্রুপ এটি বাড়িয়ে ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকায় উন্নীত করার আবেদন জানানো হয়েছে। বাজারে নিবন্ধিত ৩০টি আমদানিকারক কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৬টি নিয়মিত গ্যাস আমদানি করলেও বসুন্ধরা ও বেক্সিমকোর মতো শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশে প্রতি মাসে এলপিজির স্বাভাবিক চাহিদা রয়েছে প্রায় দেড় লাখ টন। এমনকি গত আগস্ট, সেপ্টেম্বর এবং চলমান অক্টোবর মাসে চাহিদার চেয়েও বেশি অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টন করে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও গত তিন মাস ধরে বাজারের চিত্র পুরোপুরি বেপরোয়া। অক্টোবরে সরকারিভাবে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও খুচরা পর্যায়ে তা কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না। ভোক্তাদের বাধ্য হয়ে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায়। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু চক্র।

এর আগে গত ১৫ ও ১৬ অক্টোবর এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে অযৌক্তিক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বিইআরসির পক্ষ থেকে গণশুনানির তারিখ ঘোষণা করায় শেষ পর্যন্ত তারা সেই কর্মসূচি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীদের এই বড় অঙ্কের কমিশন বাড়ানোর চাপ সাধারণ ভোক্তাদের ওপর নতুন করে চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। আজকের গণশুনানি থেকে বিইআরসি কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরাতে আদৌ কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

১ নভেম্বর থেকে ফুটপাতের পুরি-পেঁয়াজুসহ খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করল বিএফএসএ

নারী শিক্ষায় নতুন দিগন্ত ও প্রযুক্তিগত বিপ্লব : গোল্ডেন জিপিএ প্রাপ্তদের ল্যাপটপ দেবে সরকার

দুর্গাপূজার ছুটির মধ্যেও আগামী শনিবার খোলা থাকছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

চালক ও গাড়ি মালিকদের সতর্ক করল বিআরটিএ

এলপিজি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৫০০-১০০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দিন শেষ : মাঠে নামছে প্রশাসন

মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে একলাফে বাড়ল ২০ টাকা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

আজই শেষ হচ্ছে এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণের মেয়াদ,আবেদনের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম

ভূমি অফিস তদারকি ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সব ডিসিকে প্রতি কঠোর নির্দেশ

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *