দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও মাসের শেষে সরকারি বেতন উত্তোলন শিক্ষিকার !

দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও মাসের শেষে সরকারি বেতন উত্তোলন শিক্ষিকার !

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :

কলাপাড়ায় ১৫৯ নম্বর পাঞ্জুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মো. বাবুল হাওলাদার। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৫৯ নম্বর পাঞ্জুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট পাঁচজন শিক্ষক পদায়িত রয়েছেন। এর মধ্যে সহকারী শিক্ষক নাহিয়ান বিনতে ইউসুফ দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে চারজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
শিক্ষক সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একজন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. বাবুল হাওলাদার।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষিকা নাহিয়ান বিনতে ইউসুফের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম মনির একাধিকবার উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও বিষয়টির কার্যকর সমাধান হয়নি।
স্থানীয় অভিভাবক ইসাহাক হাওলাদার বলেন, একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে তার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে শিক্ষক সংকট তৈরি হলে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই শিক্ষিকার অনুপস্থিতির পেছনে কোনো অনুমোদিত ছুটি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা অন্য কোনো বৈধ কারণ রয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অনুপস্থিতির কারণ, বেতন-ভাতা গ্রহণের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা মোসা: নাহিয়ান বিনতে ইউসুফের সঙ্গে তার 01725966466 এই মোবাইল নম্বরে বারবার যোগাযোগ করা হলে সে ফোন রিসিভ  না করায় তার কোন বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা: সাহিদা বলেন,তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পরে আমরা জেলা শিক্ষা অফিসে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।এখন তারা যেই ব্যববস্হা নিবে আমরা সেটাই পালন করব। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *