বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু ,কলাপাড়া, পটুয়াখালী :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও চাঁদা না দেওয়ার জেরে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানিসহ বেদড়ক মারধর এবং তাঁর বয়োবৃদ্ধ শাশুড়ির হাত-পা ও মুখ বেঁধে বিলে ফেলে বসতঘরে আগুন দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে মারাত্মক জখম ও শরীরের যন্ত্রণা নিয়ে গৃহবধূ শাহিনুর বেগম (৩৫) ও তাঁর শাশুড়ি কহিনুর বেগম (৬৮) হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামে ভোররাত ও সন্ধ্যার পর দুই দফায় এমন নৃশংস তাণ্ডব চালানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেতকাটা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল বারেকের সঙ্গে একই ইউনিয়নের মাঝের পাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম গংদের ৭.০১ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা ও বিরোধ চলে আসছিল। জমিটি বারেকের দখলেই ছিল। প্রায় তিন মাস আগে প্রতিপক্ষরা ১ একর জমি ও ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বারেকের ঘেরের মাছ জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। অব্যাহত হুমকি-ধামকির মুখে আবদুল বারেক দীর্ঘদিন ধরে বাড়িছাড়া। বাড়িতে কেবল তাঁর পুত্রবধূ শাহিনুর বেগম ও স্ত্রী কহিনুর বেগম অবস্থান করছিলেন।
বিজ্ঞাপন
পারিবারিক অভিযোগ মতে, গত শনিবার ভোররাতে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিতে ঢুকে গৃহবধূ শাহিনুর বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর একই দিন রাত ৮টার দিকে পুনরায় হামলা চালিয়ে বৃদ্ধা কহিনুর বেগমকে মারধর করে হাত, পা ও মুখ বেঁধে বিলের মধ্যে ফেলে রাখে এবং বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তে আগুনে সম্পূর্ণ ঘরটি ভস্মীভূত হয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, বারেকের সঙ্গে স্থানীয় বেল্লালের জমি বিরোধ রয়েছে। বেল্লাল খালে মাছ ধরার সময় বারেকের ছেলে বশির তাঁর ওপর হামলা চালায়। আর ঘরে আগুন লাগার ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি প্রতিবেদক।
