রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক (কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ):
কৃষি মৌসুমে কৃষকের সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট ও নয়ছয় রুখতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বিসিআইসি ও খুচরা সার ব্যবসায়ীর গুদামে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
অভিযানকালে নিবন্ধিত গুদামে কাগজে-কলমে থাকা হিসাবের চেয়ে সরাসরি ১০০ বস্তা ইউরিয়া সারের বড় ধরনের ঘাটতি ও অনিয়ম ধরা পড়ায় এক সার ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিজ্ঞাপন
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিনগত দুপুরে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম হোসাইনের সরাসরি নেতৃত্বে এ তদারকি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট রোধ ও সরকার নির্ধারিত সঠিক মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে কোটচাঁদপুরের বিভিন্ন সার গুদাম ও দোকানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে রেজিস্টার অনুযায়ী সারের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রির রেজিস্টার মেলাতে গিয়ে এক সারের গুদামে ১০০ বস্তা ইউরিয়া সারের কোনো সন্তোষজনক হিসাব পাওয়া যায়নি। গুদামে থাকা প্রকৃত সারের সাথে খাতাপত্রের হিসাব চরম গরমিল থাকায় সার নির্দেশাবলী সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট সার ব্যবসায়ীকে নগদ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছরই চলতি আমন ও রবি মৌসুমে রাসায়নিক সারের চাহিদা বেড়ে গেলেই এলাকার একশ্রেণীর অসাধু ডিলার ও পাইকারি সার ব্যবসায়ী গুদামে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। পরে নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে কিংবা গোপন পথে বাইরে সার পাচার করে অধিক মুনাফা লুটে নেন। এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকরা, ব্যাহত হয় কৃষি উৎপাদন।
কৃষিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, সারের বাজারে স্থায়ী শৃঙ্খলা ফেরাতে কেবল সাময়িক আর্থিক জরিমানা যথেষ্ট নয়। সরকারিভাবে কোন ডিলারের অনুকূলে কত বস্তা সার বরাদ্দ হচ্ছে, প্রতিদিন কত বিক্রি হলো এবং গুদামে আর কত মজুত রয়েছে—তা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শামীম হোসাইন জানান, “কৃষকের সার নিয়ে কোনো প্রকার জালিয়াতি, কালোবাজারি, অতিরিক্ত মূল্য আদায় বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। সারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।” ছবি সংগৃহীত।


