স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের কেশবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে জি এম গোলাম হুসাইন নামে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক গোলাম হুসাইন উপজেলার বরণডালি গ্রামের শেখ আনসার আলীর ছেলে এবং বর্তমানে সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।
গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলাটি করেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সে পূর্বে সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার সময় থেকেই তৎকালীন প্রধান শিক্ষক গোলাম হুসাইন তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বৃত্তি পরীক্ষার স্পেশাল নোট ও সাজেশন দেওয়ার অজুহাতে শিশুটিকে প্রধান শিক্ষকের নিজ কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়। ওই সময় কক্ষে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিসহ স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে শিশুটি ভয়ে অসুস্থ হয়ে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে এসে ঘটনাটি তার মায়ের কাছে বিস্তারিত প্রকাশ করে।
ভুক্তভোগীর বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ইতিপূর্বে লিখিত অভিযোগ দিয়েও ওই প্রভাবশালী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বিচার পেতে বিলম্ব হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি পুলিশি মামলার দ্বারস্থ হয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা ও বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দী গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।
