শহিদ জয়:
কৃষি খাতে আধুনিকায়ন ও প্রান্তিক কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে যশোর সদর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ এবং কৃষি প্রণোদনার অর্থ হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে উপজেলার হৈবতপুর কৃষি ব্লকের নিবন্ধিত ২ হাজার ৪০৪ জন কৃষককে এই বিশেষ কার্ড ও আর্থিক প্রণোদনার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আয়োজিত এক কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে এ দেশব্যাপী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী আয়োজনে যশোর অংশ থেকে অনলাইনে যুক্ত হতে সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের বারীনগর বাজার সংলগ্ন আব্দুল বারী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। যশোর সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের যৌথ ব্যবস্থাপনায় উক্ত অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
বিজ্ঞাপন
বারীনগর কেন্দ্রের স্থানীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং শত শত কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রাক-পাইলটিং ধাপে তথ্য সংগ্রহের জন্য হৈবতপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ব্লকটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই ব্লকের ১ হাজার ২০৪ হেক্টর আবাদি জমির ২ হাজার ৬৩৫ জন কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ২ হাজার ৪০৪ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় ফসল চাষীদের পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কৃষকদেরও রাখা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা কৃষি উপকরণ ও সার-বীজ কেনার সুবিধার্থে নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২,৫০০ টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা পাবেন। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, দেশের ৫৫টি জেলার ৭১টি নির্বাচিত ব্লকের প্রায় ১ লাখ কৃষকের কাছে আজ এই অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ কেনা, স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা, সরকারি ভর্তুকি, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজারমূল্যের রিয়েল-টাইম আপডেট পাবেন। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
