স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কক্সবাজার শহরের উত্তর হাজীপাড়ার একটি নির্জন নির্মাণাধীন ভবনে প্রাক-ভোরের ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ সাড়ে ৩৫ লাখ টাকাসহ একই পরিবারের ৩ সদস্যকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তবে প্রাথমিক তল্লাশি শেষে উদ্ধারকৃত এই বিশাল চালানের নেপথ্যে বাংলাদেশ পুলিশের দুই সদস্যের সরাসরি যোগসূত্র ও রহস্যজনক ভূমিকার তথ্য সামনে আসায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর ৬টার দিকে কক্সবাজার জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস অভিযানকারী দল উত্তর হাজীপাড়ার ওই বহুতল ভবনে সারপ্রাইজ অভিযান পরিচালনা করে।
বিজ্ঞাপন
অভিযানকালে ওই ভবনের একটি কক্ষের বেডরুমে থাকা কাঠের তৈরি বড় বক্স খাটের ঢাকনা খুলতেই বেরিয়ে আসে থোকে থোকে সাজানো ৯০ হাজার পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট। একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় ইয়াবা বিক্রির নগদ ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৮০০ টাকা।
ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় টেকনাফ উপজেলার পশ্চিম পানখালী এলাকার বাসিন্দা আশিক মোমেন মেহেদী (২৩), তাঁর স্ত্রী সাদিয়া ফারহানা (২৩) এবং পরিবারের ১৬ বছর বয়সী কিশোর সায়মন সরোয়ারকে।
অভিযান শেষে প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদ চালাতেই প্রকাশ পায় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। যে নির্মাণাধীন বিলাসবহুল ভবনটিতে মেগা ইয়াবার মজুত ও অর্থের খনি পাওয়া গেছে, সেটির প্রকৃত মালিক চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদ। অন্যদিকে, আটককৃত প্রধান অভিযুক্ত আশিক মোমেন মেহেদীর আপন ভাই রেজাউল করিমও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য, যিনি বর্তমানে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) কনস্টেবল পদে কর্মরত।
অভিযানের পর সিএমপির এসআই শহীদ মুঠোফোনে জানান, ভবনটি নির্মাণের গোড়াপত্তন থেকে বিগত প্রায় ৮ বছর ধরে তাঁর আপন শ্যালক আশিক মোমেন মেহেদী সেখানে দেখভালের কেয়ারটেকার হিসেবে বসবাস করতেন। যদিও একপর্যায়ে তিনি শ্যালককে কেয়ারটেকারের বদলে ঘরভাড়াটিয়া হিসেবেও দাবি করার চেষ্টা চালান।
তবে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মালিকানাধীন ভবনের ব্যক্তিগত কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত শ্যালকের রুম থেকে একসাথে ৯০ হাজার ইয়াবা ও নগদ প্রায় ৩৬ লাখ টাকার উদ্ধার হওয়া স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ তদন্তকারীরা।
স্থানীয় সচেতন মহল ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রশ্ন উঠেছে— তবে কি দুই পুলিশ সদস্য শহীদ ও রেজাউলের ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনিক প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কক্সবাজারের এই আস্তানা থেকে টেকনাফের মাদকের মেগা রুট পরিচালিত হচ্ছিল?
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে থানায় সোপর্দ করা হচ্ছে। একই সাথে ঘটনার পেছনের মূল অর্থদাতা ও আশ্রয়দাতা হিসেবে সিএমপির এসআই শহীদ ও এপিবিএন সদস্য রেজাউলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো মদদ রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।


