এক কোটি টাকা লাভের লোভে নিঃস্ব সাবেক সেনা কর্মকর্তা!

এক কোটি টাকা লাভের লোভে নিঃস্ব সাবেক সেনা কর্মকর্তা!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

ভুয়া জমির বিক্রেতা ও ভুয়া ‘সচিব’ পরিচয়ে ক্রেতা সেজে অভিনব চক্রান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টের কাছ থেকে বায়না বাবদ ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সেনা সদস্য ফারুক হোসেন জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলে কথিত মধ্যস্থতাকারী সাইফুলের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। সাইফুল তাঁর কথিত ‘সচিব স্যার’ মোঃ সাহাবুদ্দিন হাওলাদার ওরফে মিজানুর রহমানের কাছে জমি বিক্রির কথা বলেন। পরবর্তীতে জমির পরিমাণ কম জানিয়ে সাভারের বিলামালিয়া মৌজায় ৫৮ শতক একটি ভুয়া জমি ভুক্তভোগীকে দেখান তাঁরা। প্রতারক চক্রটি ফারুক হোসেনকে প্রলোভন দেখায় যে, তিনি জমিটি বায়না সূত্রে কিনে ‘সচিব স্যারের’ নিকট বিক্রি করলে এক কোটি টাকা লাভ করতে পারবেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী চক্রটি ভুক্তভোগীর সাথে কথিত জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলম ওরফে সুমন এবং নিজেকে সচিব দাবি করা সাহাবুদ্দিনের যোগাযোগ করিয়ে দেয়। ‘সচিব’ পরিচয়ে জমিটি এক কোটি টাকা লাভে কিনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বায়নানামা দলিল দাবি করা হয়। এরপর ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন কথিত মালিকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি শাশুড়ির অসুস্থতার দোহাই দিয়ে তাড়াহুড়ো করে মোট ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা দাম নির্ধারণ করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রথমে ১০ লাখ টাকা নিয়ে বায়না দলিলের ফটোকপি এবং পরবর্তীতে মূল দলিলের কথা বলে আরও ২০ লাখ টাকা—মোট ৩০ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেন তারা। টাকা হাতে পাওয়া মাত্রই চক্রটি ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন ৩ জনকে আসামি করে ডিএমপির দারুস সালাম থানায় একটি মামলা (মামলা নং-৩২, তারিখ: ২৭/০৮/২০২৬) দায়ের করেন। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্তের জন্য গ্রহণ করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) উজ্জল ঘোষ গত ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগীর শনাক্ত মতে প্রথম আসামি শাহাবুদ্দিন আহাম্মেদ ওরফে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তীতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামি শাহাবুদ্দিন আদালতে নিজের ও অন্য সহযোগীদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পিবিআইয়ের আভিযানিক দল মিরপুর এলাকা থেকে কথিত জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলম ওরফে সুমন (৩৯) এবং একই দিন শাহআলী এলাকা থেকে কথিত দালাল সাইফুল ইসলাম ওরফে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামাই বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই জানিয়েছে, এই অভিনব প্রতারক চক্রের সাথে অন্য কোনো প্রভাবশালী বা অপরাধী চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা গভীর অনুসন্ধানের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার আইনগত তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

ইয়াবা সেবনের আসরে ডেকে নিয়ে রিক্সাচালককে কুপিয়ে হত্যা!

সৌদি ফেরত যুবককে মিসর হয়ে লিবিয়ায় পাচার : নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ দাবি

কম দামে বিমান টিকিটের লোভ দেখিয়ে ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ : শান্তাসহ ৩জন গ্রেপ্তার

সর্ষের মধ্যেই ভূত : আদালতের মাদক ধ্বংস শাখার পুলিশ সদস্যই ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

অবুঝ সন্তানদের সামনে ধর্ষণের শিকার হয়ে দুই শিশুকে নিয়ে আত্মহননের চেষ্টা এক দুর্ভাগা নারীর!

পুলিশে আসছে বিশ্বমানের বিশেষায়িত 'সাইবার পুলিশ ইউনিট'

ফুডপান্ডার এমডিসহ শীর্ষ ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

৮৩ কেজি গাঁজা ও প্রাইভেটকারসহ কারবারি হান্নান গ্রেপ্তার

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *