দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা :
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল ও সরঞ্জামাদি জব্দের কথা ঘোষণা করা হলেও, পরবর্তীতে থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারে তার মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র তিন লাখ টাকা! প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ টাকার এই বিশাল গরমিল ও অমিল নিয়ে এখন সচেতন জনমনে নানামুখী আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামে হাবিব মাস্টারের খামারের ভেতরের একটি গোডাউনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশ ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি)-র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযান শেষে প্রদীপ কুমার দাশ গণমাধ্যমকে জানান, ডার্বি, নেভি ও রয়েল ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট ও তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। কিন্তু ওই রাতেই বিএটির কুষ্টিয়ার লিগ্যাল অফিসার কাজী মর্তুজা রেজা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় ৯ জনের নামসহ মামলা দায়ের করলে দেখা যায়, এজাহারে মাত্র ২৫ হাজার শলাকা সিগারেট ও ৩ লাখ টাকার মালামাল উল্লেখ করা হয়েছে। ২০ লাখ শলাকার জায়গায় ২৫ হাজার শলাকা উল্লেখ করায় বড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ‘বিএটি প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ২ কোটি টাকার কথা বলা হয়েছিল। মামলায় কীভাবে তা ৩ লাখ টাকায় নেমে এল, তা বাদীই ভালো বলতে পারবেন। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে অভিযান পরিচালনাকারী দল প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।’
অন্যদিকে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, বাদীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী মামলা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, কারখানায় থাকা সিগারেট তৈরির মূল মেশিনটির দামই প্রায় ২ কোটি টাকা, যা তালাবদ্ধ রাখা হলেও জব্দ তালিকায় আনা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৯ মে একই কারখানায় র্যাব ও কাস্টমস অভিযান চালিয়ে সিলগালা করলেও রহস্যজনকভাবে তা আবার চালু হয়ে যায়। এত বড় অমিল ও অনিয়মের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি সংগৃহীত।

