বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর:
ভুয়া ভিসা, জাল কাগজপত্র তৈরি এবং বিদেশে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। যশোর অভয়নগরের বিতর্কিত মামুন ও তার প্রবাসে অবস্থানরত ভাই সোহাগের বিরুদ্ধে এলাকায় চক্র গড়ে তুলে সাধারণ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর নামে নিঃস্ব করার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল যশোর প্রেস ক্লাবে আল মামুন নামের এক যুবকের করা সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সংবাদ সম্মেলনে মামুন তার মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের যে দাবি করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ গ্রামের আতিয়ার রহমানের পুত্র দিনমজুর রবিউল ইসলামকে সৌদি আরবে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মামুন ও তার ভাই সোহাগ। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ভবিষ্যতের আশায় রবিউল তাদের হাতে চার লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দেন। কিন্তু চক্রটি তাকে জাল কাগজপত্র তৈরি করে সৌদি আরবে পাঠায়। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পরপরই তার ওপর শুরু হয় নির্মম নির্যাতন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রিয়াদে পৌঁছালে সোহাগ প্রথমে রানা নামে এক দালালের কাছে রবিউলকে বিক্রি করে দেয়। সেখানে একটি ভবনে আটকে রেখে রবিউলের ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে টাকা না পেয়ে তাকে মরুভূমিতে অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয় রানা, যেখানে তাকে দাসসুলভ কষ্টে দিন কাটাতে হয়। মরুভূমি থেকে ২৫ জনের সাথে কৌশলে পালিয়ে রবিউল তার চাচার সহায়তায় পুনরায় সোহাগের কাছে পৌঁছালে, সোহাগও তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় এবং বিনামূল্যে বাড়ির কাজকর্ম করিয়ে নেয়। শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার জন্য রবিউলের পরিবারের কাছ থেকে আরও ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে খালি হাতে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সৌদিতে মাত্র এক মাস পাঁচ দিন অবস্থান করে সম্প্রতি এনজিওর ঋণে জর্জরিত রবিউল দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে মামুন নানা তালবাহানা শুরু করে। এ ঘটনায় রবিউল আদালতে মামলা দায়ের করেন। গত ১৯ জুন রাতে মামুন অভয়নগরের প্রেমবাগ এলাকার চায়না বাজারে এলে রবিউল ও স্থানীয় বাজার কমিটির সদস্যরা পাওনা টাকার দাবিতে মামুনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আটকে রাখেন। ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে মামুন পুলিশকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দেয়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রকৃত সত্য জানতে পারলে বাজার কমিটি মোটরসাইকেলটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে অভয়নগর থানা পুলিশ তদন্ত শেষে মোটরসাইকেলটির প্রকৃত মালিক—মামুনের চাচাতো ভাইয়ের কাছে তা হস্তান্তর করে।
ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম বর্তমানে স্থানীয় একটি চুন ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের কাজ করছেন। ঋণের দায়ে দিশেহারা রবিউলের মতো এলাকার বহু সাধারণ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিঃস্ব করেছে এই আন্তর্জাতিক আদম পাচারকারী সিন্ডিকেট। চক্রটির বিশাল নেটওয়ার্ক ও এর পেছনের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে এই প্রসঙ্গ উঠালেই তিনি সাথে সাথে ফোনটি কেটে দেন। এই সিন্ডিকেট বিষয়ে বিস্তারিত সচিত্র প্রতিবেদন দেখতে চোখ রাখুন আমাদের আগামী পর্বে।


