স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ৮ নভেম্বর ২০২৬
যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে চিকিৎসার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এক নারীর শরীর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই সফল অভিযানে পুলিশ তাদের হেফাজত থেকে ৩টি স্বর্ণের চেইন ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।
আজ রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) ভোরের দিকে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—কোটচাঁদপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ওলিয়ার হোসেনের ছেলে আশিক (২০) এবং সলেমানপুর গ্রামের প্রশান্ত কর্মকারের ছেলে তন্ময় কর্মকার (৩৩)।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত ঘোষ জানান, উদ্ধার করা তিনটি স্বর্ণের মোট ওজন ১৫ দশমিক ২৮ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) নিবিড় তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তার ভিত্তিতে রোববার রাত আড়াইটার দিকে কোটচাঁদপুর উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে প্রথমে আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে কোটচাঁদপুর বাজারের গার্লস স্কুল রোড সংলগ্ন পলাশ জুয়েলার্স নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তন্ময় কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই অভিযানে প্রতারক আশিকের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং জুয়েলার্স ব্যবসায়ী তন্ময়ের হেফাজত থেকে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৫০ গ্রাম, ২ দশমিক ৯৮ গ্রাম ও ৫ দশমিক ৮০ গ্রাম ওজনের মোট তিনটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার ভুক্তভোগী নারীর স্বামী যশোর শহরতলীর বাসিন্দা মো. ইউনুস আলী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতপরিচয় প্রতারক ব্যক্তিরা মুঠোফোনে নিজেদের কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁর স্ত্রীর শারীরিক বিভিন্ন ব্যথা নিরাময়ের লোভনীয় ও ভুয়া আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন কৌশলে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ১ ভরি ৭ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১৯ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেন। পুলিশ এই প্রতারক চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। ছবি সংগৃহীত।
