স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬
যশোর শহরের স্বাস্থ্যসেবা খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে ও অপচিকিৎসা বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে শহরের যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে অনিয়মের দায়ে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং বৈধ কাগজপত্র না থাকায় অন্য একটি প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়।
উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ যৌথ অভিযানে মূল নেতৃত্বে ছিলেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীম বিনতে মুস্তাফিজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল অভিযানে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।
বিজ্ঞাপন
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল তথ্যসূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ হাসপাতাল এলাকার প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে সরেজমিনে মতিয়ার রহমান নামের এক ব্যক্তিকে রোগী দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রাতিষ্ঠানিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি এমবিবিএস সনদপ্রাপ্ত কোনো নিবন্ধিত চিকিৎসক নন, মূলত একজন ইউনানী অল্টারনেটিভ চিকিৎসক। তবুও দীর্ঘদিন যাবত তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে বিভিন্ন ধরনের অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ লিখে আসছিলেন। চিকিৎসার নামে এ হেন প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত উক্ত ক্লিনিকের পরিচালক সেলিম হোসেনকে নগদ এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
একই সময়ে নিকটবর্তী ইসলামী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দ্বিতীয় দফায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। তল্লাশিকালে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও ডায়াগনস্টিক কার্যক্রমের অনুকূলে কোনো হালনাগাদ ও বৈধ সরকারি অনুমোদনপত্র বা কাগজপত্র দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পরিদর্শনকালে হাবিবুর রহমান নামে এক ডিএমএফ ডিগ্রিধারী চিকিৎসককে রোগী দেখতে পান আদালত। অনুমোদনহীনভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও অভ্যন্তরীণ অনিয়মের সত্যতা পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে তালাবদ্ধ করার আদেশ দেন।
অভিযান শেষে সার্বিক বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো প্রকার ছিনিমিনি বা অপচিকিৎসার ব্যবসা চালাতে দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভুয়া চিকিৎসক ও অনুমোদনহীন ক্লিনিকের নৈরাজ্য রোধে জেলাজুড়ে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান নিয়মিতভাবে জারি থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

