স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ৪ নভেম্বর ২০২৬
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে যশোরসহ পুরো বিভাগে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সকাল হতেই শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে এই প্রবীণ জননেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় একের পর এক কর্মসূচির ঢল নামে।
বিজ্ঞাপন
দিনের সূচনাতেই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের ঐতিহাসিক কারবালা কবরস্থানে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই কবর জিয়ারতে কেবল দলীয় নেতাকর্মীই নন, শরিক হন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকবৃন্দ। প্রয়াত নেতার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালনের পর তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় হাত তোলেন সবাই।
এর পর শহরের দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে স্মরণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে ভোর থেকে শুরু হওয়া কোরআন খতমের পর এক বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গন ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ একসঙ্গে শরিক হন।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিতি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান, এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ।
এছাড়াও প্রবীণ নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কারবালা ও দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা। শোক প্রকাশে যোগ দেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, নড়াইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জুলফিকার আলী, তরিকুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিসিবি পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিত, এবং যশোর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
স্মরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মধ্যাহ্নে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি জেলা মৎস্যজীবী দল কারবালা ও আশপাশের মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে টুপি, তাসবিহ ও জায়নামাজ উপহার হিসেবে তুলে দেয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যশোর শহরের বাইরেও আটটি উপজেলা, সকল পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ইউনিটগুলোতে পৃথকভাবে মিলাদ, তাবারক বিতরণ ও গণভোজের আয়োজন নিশ্চিত করা হয়েছে। সর্বস্তরের মানুষের এই বিপুল অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, যশোরবাসীর হৃদয়ে তরিকুল ইসলাম আজও কতটা অমর। ছবি সংগৃহীত।

