চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :
তারিখ: ৪ নভেম্বর ২০২৬
যশোরের চৌগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম আন্দুলিয়ায় প্রবাসী স্বামীকে তালাক দেওয়ার মাত্র চার দিন পর এক সন্তানের জননী মরিয়ম বেগম নামের এক গৃহবধূর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে ব্লেড দিয়ে সমস্ত শরীর ক্ষতবিক্ষত করে মারাত্মক জখম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে নিজের পিতৃালয়ে এই চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত মরিয়ম বেগম চৌগাছার ছোট আন্দুলিয়া গ্রামের হযরত আলী টিটোর মেয়ে।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম জানান, প্রায় ৬-৭ বছর আগে ভারত সীমান্তবর্তী দৌলতপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আলম শাহারিয়া ওরফে শুভর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের প্রায় চার বছর পর স্বামী শুভ মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর শ্বশুর আব্দুর রহিম বিভিন্ন সময় তাঁকে কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করেন। বিষয়টি তিনি প্রবাসী স্বামী শুভকে একাধিকবার জানালেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। নিরুপায় হয়ে মরিয়ম স্বামীর বাড়ি ছেড়ে নিজ পিতা হযরত আলী টিটোর বাড়ি আন্দুলিয়ায় চলে আসেন এবং স্বামী দেশে না ফেরা পর্যন্ত ওই বাড়িতে আর ফিরবেন না বলে জানান। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মরিয়ম স্বামীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং গত চার দিন আগে নিয়মমাফিক স্বামী শুভকে তালাক নোটিশ পাঠিয়ে পিতার বাড়িতেই সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মরিয়ম আরও জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ঘরের বাইরে উঠানে আসেন। এ সময় ওত পেতে থাকা চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে জাপটে ধরে বাড়ির পেছনের বাগানে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, “একজন আমার মুখ চেপে ধরে রাখে, আরেকজন ব্লেড দিয়ে আমার শরীরের যেখানে-সেখানে এলোপাতাড়ি কেটে ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে। এ সময় অপর একজন হামলাকারী আমার তালাক দেওয়া স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিল। নির্যাতন চালিয়ে তারা আমাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে আমার চিৎকারে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।”
এ বিষয়ে গ্রামের ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “জরুরি একটি কাজে আমি বর্তমানে গ্রামের বাইরে রয়েছে। তবে রাতেই মুঠোফোনে ঘটনাটি শুনেছি এবং মেয়েটির ওপর হামলার খবর পেয়েছি। কী কারণে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা সম্ভব।”
অন্যদিকে, এই ঘটনায় সাবেক শ্বশুরের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আব্দুর রহিমের স্ত্রী (আহতের সাবেক শাশুড়ি) নাহিদা বেগম বলেন, “বৌমা নিজের ইচ্ছামতো তালাক দিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে চলে গেছে। এখন আমাদের ফাঁসানোর জন্য সে নিজেই এমন নোংরা ফাঁদ পেতেছে। সে এর আগেও এ ধরনের অপকর্ম করেছে। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এটি নিছক আমাদের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ছবি সংগৃহীত।
