অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত জামায়াত নেতার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল এলাকাবাসী

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত জামায়াত নেতার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল এলাকাবাসী

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সামাজিকভাবে বিতর্কিত এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বসতঘর আকস্মিক ভাঙচুর করেছে ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত এলাকাবাসী। আজ রবিবার (১ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির পরিচয় তাইজুল ইসলাম। তিনি এতদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিলখী ইউনিয়ন শাখার আমিরের দায়িত্বে বহাল ছিলেন। তবে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর পিতার নাম আব্দুর রহমান মিয়াজী।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর রবিবার দুপুরের দিকে নিজ বাড়ির বসতঘরে এক নারীর সঙ্গে সন্দেহজনক ও আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়েন তাইজুল। পরবর্তীতে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন প্রোফাইল ও গ্রুপে ভাইরাল হলে পুরো অঞ্চলে তীব্র চাঞ্চল্য ও জনরোষের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে শত শত ক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে অভিযুক্তের বসতঘরে চড়াও হন এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ঘরটি আংশিক গুঁড়িয়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় এলাকাবাসীর কঠোর অভিযোগ রয়েছে যে, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম বেশ কিছুদিন ধরে এলাকার সরল ও সহজ-সরল নারীদের ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক বিভিন্ন জটিল সমস্যার সুরাহা দেওয়ার নাম করে বাড়িতে পানিপড়া ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে একপ্রকার প্রতারণামূলক কথিত চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন। এই আড়ালের সুযোগেই তিনি বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা ও বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত তাইজুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পাশাপাশি, এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ছরোয়ার হোসাইন মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *