স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
চীনে উচ্চ বেতনে লোভনীয় চাকরি ও উন্নত জীবনযাত্রার নানা প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১২ জন নারী ও কিশোরীকে সফল অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১)। রাজধানীর উত্তরা ও ভাটারা এলাকার দুটি পৃথক স্থানে ধারাবাহিক এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-১-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপস ও মিডিয়া অফিসার) শাহ আলম।
উদ্ধার পাওয়া নারী ও কিশোরীরা হলেন— মেমাচি মারমা (১৫), মাংশানু মগনি (১৮), রেখা চাকমা (২৮), ক্যানচি চাকমা (২২), বিরুপতি চাকমা (২৮), পূণ্যরেখা চাকমা (২৮), চাইছাইও মার্মা (২২), কৃষ্টিনা রোয়ালময় বৈল্টুং (১৯), পুষ্পিতা চাকমা (২১), পিংকি চাকমা (১৫), ববিতা চাকমা (২৭) এবং আদর্শী চাকমা (২১)।
বিজ্ঞাপন
এসআরবি-১ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের নিখোঁজের ঘটনায় গত ১৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়। ওই জিডির সূত্রে ধরে বিশেষ তদন্ত শুরু করে এসআরবি-১। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে উত্তরার যমযম টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় প্রথম অভিযান চালিয়ে মেমাচি মারমা ও মাংশানু মগনিকে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একই দিন রাত ৮টা থেকে শুরু করে গভীর রাত ১টা পর্যন্ত ভাটারা থানাধীন এল ব্লকের ৫৬ নম্বর রোডের ২৯৪১ নম্বর বাড়িতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে বন্দি অবস্থায় থাকা বাকি ১০ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন অভিযানে থাকা সদস্যরা।
এসআরবির জ্যেষ্ঠ এই কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগী নারী ও কিশোরীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পাচারকারী চক্রটি চীনে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি ও সুবিধাজনক জীবনের লোভ দেখিয়ে তাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে প্রথমে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে বিদেশে যাওয়ার কোনো বৈধ পাসপোর্ট ও ভ্রমণ সংক্রান্ত আইনি কাগজপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে ওই বাসায় জোর করে আটকে রাখা হয়। বন্দিদশায় তাদের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো এবং অনৈতিক নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখানো হতো।
উদ্ধারকৃত নারীদের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিরাপদে নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছবি সংগৃহীত।
