স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
পিরোজপুরে সদ্যপ্রয়াত এক বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষবিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে গার্ড অব অনার প্রদান ও জানাজার নামাজ আয়োজনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল জাগপার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়ক নিজামুদ্দিন অমিত।
এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তৃণমূল জাগপা প্রধান বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রাখা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর শেষবিদায়ে প্রাপ্য সম্মানটুকু নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ ও দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, পিরোজপুরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সরাসরি বাধার মুখে পড়ে ওই প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে যে চরম দুর্ভোগ ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হয়েছে, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এমনকি চরম আতঙ্কের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের বাধ্য হয়ে রাতের আঁধারে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে প্রিয়জনের কবর খুঁড়তে হয়েছে বলে তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
নিজামুদ্দিন অমিত তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেন, একজন দেশের বীর সন্তানের প্রতি জীবিত বা মৃত অবস্থায় এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ মুক্তিযুদ্ধ, দেশের ইতিহাস এবং জাতীয় মূল্যবোধের ওপর এক চরম আঘাত। এমন এক সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে সরকারের প্রশাসনিকভাবে ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ানো এবং তাঁর সর্বোচ্চ সম্মানজনক বিদায় নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার নেপথ্য কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে জাগপা সমন্বয়ক বলেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুরে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী প্রধান বাদী ও অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছিলেন। সেই অতীত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জের ধরে একজন মৃত ব্যক্তির প্রতি এমন অমানবিক আচরণ করা কোনো সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় হতে পারে না।
একজন মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহের সাথে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার জোর দাবি জানান তৃণমূল জাগপার এই শীর্ষ নেতা। ছবি সংগৃহীত।
