স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য বহুপ্রত্যাশিত লংমার্চ উপলক্ষ্যে যশোরের মুড়লি মোড়ে আয়োজিত মহাসমাবেশে দেড় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে এবং এটি যশোরের স্মরণকালের ইতিহাসে বৃহত্তম জনসভা হিসেবে রূপ নেবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি।
আজ শনিবার দুপুরে যশোর জেলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, প্রধান প্রতিবেদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান।
উক্ত মতবিনিময় সভায় আগামী দিনের সকল কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সার্বিক ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
বিজ্ঞাপন
জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল জানান, আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ কেন্দ্রিক সমাবেশে যশোর জেলায় সবচেয়ে বড় গণজমায়েত নিশ্চিত করতে আগামী কয়েকদিন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে আগামী কয়েক দিন ১১ দলীয় ঐক্য যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি পালন করবে, সেগুলো পত্রিকায় গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।
প্রচার-প্রচারণা সম্পর্কে তিনি বিশদ বিবরণ তুলে ধরে বলেন, লংমার্চের সমর্থনে ইতিমধ্যে প্রতিদিন জেলার একাধিক ইউনিয়নে একযোগে মিছিল ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর বাইরেও সচেতনতা বাড়াতে পাঁচ লাখ লিফলেট এবং এক লাখ বিশেষ প্রচার পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই যশোর জেলার প্রতিটি থানা, ইউনিয়ন, পাড়া ও মহল্লায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ১১ দলীয় ঐক্য মূলত সাধারণ মানুষের ন্যায্য ও মৌলিক অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই লংমার্চ পালন করছে। লংমার্চকে কেন্দ্র করে যশোর শহরের সাধারণ মানুষ কিংবা পথচারীরা যাতে কোনো ধরনের অহেতুক যানজট বা দুর্ভোগের মুখোমুখি না হন, সেই কারণে শহরের কেন্দ্রস্থল পরিহার করে মুড়লির মোড় এলাকাটিকে জনসভার স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য বাইপাস সড়ক সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হবে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত যানবাহন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পুরো জনসভা শৃঙ্খলার সাথে সম্পন্ন করতে বিশেষ প্রশিক্ষপ্রাপ্ত ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
লংমার্চের আয়োজনে মাঠপর্যায়ে বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধার মুখোমুখি হয়েছেন কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক গোলাম রসুল জানান, এখন পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের বাধা বা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হননি। ইতিমধ্যেই কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, লংমার্চের নির্ধারিত দিনে খুলনার শেষ সীমান্ত থেকে শুরু করে ঝিনাইদহ জেলার সীমানা পর্যন্ত পুরো মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত থেকে লংমার্চকে স্বাগত জানাবেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় জেলা জামায়াতের নেতৃত্বের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে বেলাল হুসাইন, গোলাম কুদ্দুস, শামছুজ্জামান, রেজাউল করীম ও মনিরুল ইসলাম, প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহাবুদ্দীন বিশ্বাস এবং শহর শাখার ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেনসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। ছবি সংগৃহীত।
