মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশীপুর বেদে পল্লীতে মাদক ব্যবসা ও চুরির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং লুটপাটের শিকার হয়েছে। হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) রাত থেকে শুরু হয়ে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত উত্তেজনা থাকায় ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে এলাকায় মোতায়েন করা হয়। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে একজনকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন বস্তি এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন একজন ড্রাগন চোরকে হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে ওই চোরের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মিজান নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে আনা হয়। তবে অভিযুক্তদের থানা পুলিশে সোপর্দ না করে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই মীমাংসাকে কেন্দ্র করে কাশীপুর বেদে পল্লী এবং স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং দুই পক্ষ দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
এই বিরোধের জের ধরে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে বেদে পল্লীর একাংশের সর্দার মনিরুল ইসলাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা ইমাম হোসেন লাভলু ও রেজা ডাকাত দলবল নিয়ে প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
কিন্তু রাতের ওই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ মঙ্গলবার সকালে গ্রামের সাধারণ লোকজন একত্রিত হয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষদের ওপর চড়াও হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলায় শামীম হোসেন, ইমাম হোসেন লাভলু ও আজিজুলসহ অন্তত সাতজন গুরুতর জখম হন।
সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায় এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঝিনাইদহ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এনে এলাকায় মোতায়েন করা হয়। হামলায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকার পরও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঘটনার বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ছবি সংগৃহীত।
