স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী হাটে পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা ও ধনিয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য কিনতে গিয়ে নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের রক্তক্ষয়ী মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া সরকারপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জাজিরার ওই পাঁচ ব্যবসায়ী হলেন—রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজীরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, একই এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে হলুদ ব্যবসায়ী শাহিন বেপারী।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাঁচজনই দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার ঐতিহ্যবাহী কাজীরহাট বাজারসহ আশেপাশের বিভিন্ন বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। স্থানীয় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃষিপণ্য পাইকারি দরে কেনার জন্য তারা একসঙ্গে রাজশাহী জেলার তাহেরপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পূর্বেই বনপাড়া এলাকায় তাদের বহনকারী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি যানই দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাজিরার পাঁচজনসহ মোট ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে।
ভোর সকালে নিজ নিজ বাড়িতে দুর্ঘটনায় নিহতের খবর পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে জাজিরার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। একই এলাকার বাসিন্দা এবং ব্যবসায়িক সূত্রে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ এই পাঁচ সহকর্মীর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকার ব্যবসায়িক সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হত্যাকণ্ড ও দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা জানান, নিহতদের প্রত্যেকেই অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ ছিলেন। তাদের সাথে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। এভাবে অকালে তাদের জীবনাবসান ঘটবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
দুর্ঘটনার বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ জানান, খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের মারফত তারা জানতে পেরেছেন। নাটোর জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং নিহতের মরদেহের আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরে সমন্বয় করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।
