স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ প্রাপ্ত অভিযোগ ও লিখিত আবেদনের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের অফিশিয়াল ক্লিপবোর্ড ভেঙে সরকারি নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশকে আক্রমণের চেষ্টার অপরাধে এক দম্পতিকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ।
গতকাল রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত মসজিদঘোনা গ্রামে এই তুলকালাম কাণ্ড ঘটে।
আটককৃতরা হলেন মসজিদঘোনা এলাকার খালেকুজ্জামানের ছেলে জাফর আলম (৫৭) এবং তাঁর স্ত্রী দিল নূর বেগম (৪০)।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্র জানায়, রোববার সকালে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক ৯৯৯-এ কল দিয়ে জানান যে, সীমানা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে জাফর আলম, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে আরিয়ান তাঁকে ধারালো রামদা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে আটকে রেখেছেন। খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আদেশে মোবাইল টিম সেখানে যায় এবং ভুক্তভোগী যুবকও থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বিকেলে তদন্তকারী টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত জাফর আলম, দিলনূর বেগম ও আরিয়ান পুলিশকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাঁরা তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে টানা-হেঁচড়া শুরু করেন এবং হাতাহাতির মাঝে বাদীর মূল অভিযোগপত্রটি ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। সেই সাথে পুলিশ কর্মকর্তা ক্লিপবোর্ডটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পরপরই দিলনূর বেগম ও তাঁর ছেলে আরিয়ান ধারালো রামদা ও বঁটি উঁচিয়ে পুলিশের দিকে তেড়ে আসেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ সদস্যরা কৌশলগতভাবে পিছিয়ে গিয়ে থানাকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স গিয়ে রামদা ও বঁটি উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে জাফর আলম ও তাঁর স্ত্রীকে হাতেনাতে আটক করে। তবে আভিযানিক দল পৌঁছানোর সুযোগে তাঁদের ছেলে আরিয়ান সটকে পড়েন।
হামলায় সামান্য আহত পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কর্তব্যে বাধা, নথিপত্র নষ্ট ও পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলার অপরাধে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক আসামিকে ধরতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।
