কিশোর অটোরিকশাচালককে শ্বাসরোধে হত্যা ও লাশ গুম !

কিশোর অটোরিকশাচালককে শ্বাসরোধে হত্যা ও লাশ গুম !

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

নরসিংদীর রায়পুরায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কিশোর চালক মনির হোসেনকে (১৬) নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা ও লাশ গুমের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনায় জড়িত দুই মূল ঘাতককে নরসিংদী ও কুমিল্লা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআইয়ের একটি চৌকস দল। একই সঙ্গে নিহত মনিরের ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার ব্যাটারিগুলোও উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত মনির হোসেন নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাধীন চরসুবুদ্ধি এলাকার বাসিন্দা মো. শাহআলম মিয়ার ছেলে।

পিবিআই ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকালে কিশোর অটোরিকশাচালক মনির হোসেন প্রতিদিনের মতো নিজ বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। স্বজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে মনিরের বাবা রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের ১০ দিন পর গত ৫ অক্টোবর সকালে রায়পুরা থানাধীন আদিয়াবাদ শিকদারপাড়া (দরগাবাড়ি) সংলগ্ন একটি বিলের কচুরিপানার ভেতর থেকে নিখোঁজ মনিরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই মর্মান্তিক ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা দায়েরের পর গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পিবিআই নরসিংদী জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই নরসিংদীর সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) মো. আশরাফ আলী তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব লাভ করে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি এবং নিবিড় গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করেন।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৪ অক্টোবর পলাশ থানাধীন ঘোড়াশাল বাগপাড়া বুরুজেরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসাদ মিয়া ওরফে এরশাদ (৩৮) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী ছিনতাইকৃত অটোরিকশার ৪টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়। আসাদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পরদিন ১৫ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার লালমাই বাজার সংলগ্ন আইটি পার্ক এলাকা থেকে ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামি জাহিদুল মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে প্রকাশ পায়, আসামিরা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রীবেশে মনিরের অটোরিকশাটি ভাড়া করে। নির্জন স্থানে পৌঁছামাত্র অটোরিকশাটি থামাতে বাধ্য করে চক্রটি। এরপর প্রথমে মনিরের গলা টিপে ধরা হয় এবং পরবর্তীতে মনিরের ব্যবহৃত প্যান্টের বেল্ট খুলে তা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকেরা। পরে হত্যাকাণ্ড গোপন ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের বিলের পানিতে কচুরিপানা দিয়ে লাশ ঢেকে রাখা হয়।

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর ঘাতকেরা ছিনতাই করা অটোরিকশাটি বিক্রি করে নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়।

গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটির মূল বডি উদ্ধারে পিবিআই নরসিংদী জেলার তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *