স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলাজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ মো. শামসুল ফালাক কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ও সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে ৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত যশোরে সর্বমোট ১ হাজার ৬৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও ভর্তি হয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলায় সর্বমোট ২ জন রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া চিকিৎসা সেবা গ্রহণ শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে সর্বমোট ১ হাজার ৩৯৭ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। একই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩১ জন রোগীকে রেফার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালে মোট ১২৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলাওয়ারী তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে অভয়নগরে ৫ জন, বাঘারপাড়ায় ৬ জন, চৌগাছায় ৩ জন, ঝিকরগাছায় ১ জন, মনিরামপুরে ৬ জন, শার্শায় ৫ জন এবং যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে কেশবপুর উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।
চলতি বছরের শুরু থেকে অদ্যাবধি উপজেলার হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অভয়নগরে ৬৩২ জন, বাঘারপাড়ায় ১৩৫ জন, চৌগাছায় ৩০ জন, ঝিকরগাছায় ৫৭ জন, কেশবপুরে ১৮০ জন, মনিরামপুরে ৯৩ জন, শার্শায় ১৬১ জন এবং যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৩০১ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১২৯ জন রোগীর মধ্যে অভয়নগরে ৩৫ জন, বাঘারপাড়ায় ১১ জন, চৌগাছায় ৩ জন, ঝিকরগাছায় ১ জন, কেশবপুরে ১০ জন, মনিরামপুরে ৯ জন, শার্শায় ১৭ জন এবং যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৪৩ জন ভর্তি রয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে মশার কামড় থেকে বেঁচে থাকতে এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফাইল ছবি সংগৃহীত।
