স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর উপশহরের আবাসিক বাসভবনের সামনে থেকে বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনার পর তাৎক্ষণিক তদন্তে নেমে দুই অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক ভাঙারি দোকানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে চুরিকৃত তার থেকে প্রক্রিয়াজাত করা বিপুল পরিমাণ তামা ও কিছু লোহা-লক্কড়ের রড উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃত অভিযুক্তরা হলেন শহরের বারান্দী পাড়া এলাকার বাসিন্দা সজীব এবং শহরের হাইকোর্ট মোড় এলাকার সেতু ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তুহিন। গত শুক্রবার রাতে উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে সজীবকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সজীবের স্বীকারোক্তি ও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাঙারি ব্যবসায়ী তুহিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর শেষ রাতে আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটের দিকে অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর উপশহরের বাসভবনের সামনের অংশ থেকে কতিপয় চোর বিদ্যুতের সার্ভিস ও সংযোগ তার কেটে চুরি করে নিয়ে যায়। সম্প্রতি যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত তার চুরির একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ায় পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় সজীবকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
আটকের পর পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে সজীব বিদ্যুতের তার সরাসরি চুরি করা এবং চুরিকৃত মালামাল অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আজ শনিবার সকালে আটক সজীব ও তুহিনকে সঙ্গে নিয়ে হাইকোর্ট মোড়ে অবস্থিত সেতু ট্রেডার্স নামের ওই ভাঙারি দোকানে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে উপশহর ফাঁড়ি পুলিশ। অভিযানে তুহিন দোকান খুলে দিলে সেখান থেকে গোপনে মজুত রাখা চুরিকৃত তারের বিপুল তামা ও মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়, এই চোর চক্রটি অত্যন্ত সুচতুরভাবে বিদ্যুতের তার অবিকৃত অবস্থায় সরাসরি বিক্রি না করে তারের উপরিভাগের প্লাস্টিক বা ক্যাবল কেটে ভেতরের মূল্যবান তামা আলাদা করে ভাঙারি দোকানে বিক্রি করত। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।
