কুষ্টিয়ায় জামিনে মুক্ত হয়েই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আ’লীগ কর্মীদের বিএনপি অফিসে হামলা

কুষ্টিয়ায় জামিনে মুক্ত হয়েই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আ’লীগ কর্মীদের বিএনপি অফিসে হামলা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় নাশকতার মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে এলাকায় ফিরে বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় হামলায় বিএনপির ৫ থেকে ৬ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে এ ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা-কর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দিয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসভবনে ভাঙচুর চালান এবং তাঁর একটি পাটের গুদামে আগুন ধরিয়ে দেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলকোলা গ্রামে এ দফায় দফায় হামলা, পাল্টা হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি কর্মীদের দাবি, পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রুহুলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একদল সশস্ত্র লোক সংঘবদ্ধ হয়ে এই তাণ্ডব চালায়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নলকোলা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বসে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের অনুসারীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে হঠাৎ বিএনপি কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও মালামাল কুপিয়ে ভাঙচুর করে এবং উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৫-৬ জন রক্তাক্ত জখম হন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি রাজনৈতিক মিছিল ও নাশকতার অভিযোগে ইবি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যাতে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলসহ বেশ কয়েকজন আসামি ছিলেন। উক্ত মামলায় মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিন লাভ করে এলাকায় ফেরেন তাঁরা। এলাকায় এসে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের পরপরই তাঁরা সংগঠিত হয়ে বিএনপি অফিসে এ হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এদিকে বিএনপি অফিসে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে দলের ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। তারা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তাঁর মালিকানাধীন একটি পাটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফয়সাল মাহমুদ জানান, সহিংসতার খবর পাওয়া মাত্রই ইবি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *