কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সালিশ বৈঠকে রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধ : বৃদ্ধ নিহত, গুলিবিদ্ধ ৭

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সালিশ বৈঠকে রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধ : বৃদ্ধ নিহত, গুলিবিদ্ধ ৭

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি মাদকের কারবার এবং অবৈধ পাতার বিড়ি বিক্রির অর্জিত অর্থ ভাগাভাগির পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গোলাম মোস্তফা টেংগর (৬০) নামে এক বৃদ্ধ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৭ জন মারাত্মক আহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি মরারপাড়া গ্রামে রক্তক্ষয়ী এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত গোলাম মোস্তফা টেংগর মরারপাড়া গ্রামের মৃত দয়োমের ছেলে। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিরা হলেন— ওই এলাকার সুমন মিয়া (৫০), হাদু মণ্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আহাদ মণ্ডল (৬০) ও রাজু মণ্ডল (৩০)।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, অবৈধ মাদক লেনদেন ও বিড়ি বিক্রির লভ্যাংশ বণ্টন নিয়ে স্থানীয় দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উত্তেজনার একপর্যায়ে উভয়পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে ঘটনাস্থলেই একাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে গোলাম মোস্তফা টেংগরের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে ভর্তি বাকি ৭ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা।

এদিকে, প্রকাশ্য গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের খবরে পুরো সীমান্ত এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-র সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে উভয় বাহিনীর যৌথ টহল জোরদার করায় পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “আভ্যন্তরীণ ও পুরোনো বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ ও রক্তপাতের এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত ও অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।” ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *