আবাসিক মাদরাসা ছাত্রকে তিন মাস ধরে বলাৎকার!

আবাসিক মাদরাসা ছাত্রকে তিন মাস ধরে বলাৎকার!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি আবাসিক মাদরাসার ১০ বছর বয়সী কোমলমতি এক নাজেরা বিভাগের ছাত্রকে টানা তিন মাস ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানোর লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে আল আমিন নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

নির্যাতনের জেরে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে ভুক্তভোগী শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দেয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন ও ঘটনার সময় উসকানিমূলক আচরণ করা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেয়।

ভুক্তভোগীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর পৌর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ভাড়া ভবনে পরিচালিত ‘মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা’র নাজেরা বিভাগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভর্তি হয়ে আবাসিক শাখায় থাকতে শুরু করে ওই শিশু। অভিযোগ অনুযায়ী, গত জুন মাস থেকে শিক্ষক আল আমিন শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

নির্যাতনের কারণে শিশুটির তলপেটে তীব্র ব্যথা ও রেক্টাল রক্তক্ষরণসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। অসুস্থতা বাড়লে মা তাকে বাড়ি নিয়ে চিকিৎসা করান। তবে গত মাসের শেষের দিকে পুনরায় মাদরাসায় রেখে আসার পর ওই শিক্ষকের নির্যাতন আরও বেপরোয়া রূপ নেয়।

গত ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) শিশুটিকে মির্জাপুরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকরা অভ্যন্তরীণ মারাত্মক আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপরই শিশুটি তাঁর মায়ের কাছে শিক্ষকের অপকর্মের বিস্তারিত প্রকাশ করে।

আজ শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা মাদরাসায় গিয়ে বিচার দাবি করলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় উৎসুক জনতা সেখানে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত আল আমিনকে গণধোলাই দেয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে মাদরাসার প্রিন্সিপাল মনিরুজ্জামান উল্টো শিক্ষার্থীদের লাঠি নিয়ে উত্তেজিত জনতাকে ঠেকানোর নির্দেশ দেন, যা পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তোলে।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের দায়েরকৃত সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালকে সার্বিক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।” ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *