মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ১ নম্বর ভায়না ইউনিয়নে পূর্ব শত্রুতা ও সামাজিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে মোলাম উদ্দীন (৫০) নামের এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বিজ্ঞাপন
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের কালিশংকরপুর গ্রামে এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
নিহত মোলাম উদ্দিন হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের কালিশংকরপুর গ্রামের মৃত আবুল মণ্ডলের ছেলে। তিনি ১ নম্বর ভায়না ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে কাজ শেষে মোলাম উদ্দীন বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হঠাৎ তাঁর গতিপথ রোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। তাঁর আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাঁকে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে (মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছালে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হরিণাকুণ্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পূর্ব শত্রুতা ও স্থানীয় কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর এই হামলা চালিয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
ওসি আরও জানান, নিহতের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সাথে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে জোর অভিযান পরিচালনা করছে।ছবি সংগৃহীত।

