নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ দলের সদস্যদের অতর্কিত সশস্ত্র হামলায় মিসকান সরদার (৩৬) নামে এক যুবক নৃশংসভাবে কুপিয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারীসহ অন্তত ৬ জন মারাত্মক আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ সংঘাত ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
নিহত মিসকান সরদার ওই মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের লোকমান সরদারের ছেলে।
আহত ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজ সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের আসলামের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক প্রতিপক্ষ দলের লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মিসকান সরদারসহ উপস্থিত লোকজনকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলেপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
এ সময় বাধা দিতে এলে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের কোপে সারফিনা বেগম নামে এক নারীর মাথা গুরুতর জখম হয়। পরবর্তীতে তাঁকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাঁর মাথায় ২৫টি সেলাই দিতে হয়।
হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখান মিসকান সরদারের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মিসকানের মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, “নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন করে এলাকায় কোনো বিশৃঙ্খলা না সৃষ্টি হয়, সে জন্য মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত মামলা দায়ের হয়নি, তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।” ফাইল ছবি সংগৃহীত।


