রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক (কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ):
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় (এনএসআই) উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে চাকরি করেন—এমন মিথ্যা দাপুটে পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগে রাকিবুল হাসান (৩০) নামে এক ভুয়া কর্মকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের তালসার বাজার এলাকা থেকে তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আটককৃত রাকিবুল হাসান কোটচাঁদপুর উপজেলার শালকোপা গ্রামের মো. মহসিন আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে তালসার বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিজেকে এনএসআই-এর উপ-পরিদর্শক হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তিনি সরকারি ওই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে অত্যন্ত রূঢ় ও উদ্ধত আচরণ করতেন। শুধু তাই নয়, কৌশলে নানা অজুহাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধ অনৈতিক সুবিধাও আদায় করতেন বলে মৌখিক অভিযোগ ছিল।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি আবারও তালসার বাজারে উপস্থিত হয়ে একইভাবে এনএসআইয়ের উপ-পরিদর্শক হিসেবে ক্ষমতার দাপট দেখাতে থাকেন। এতে তাঁর চলাফেরা ও আচরণ নিয়ে স্থানীয় সচেতন লোকজনের সন্দেহ দানা বাঁধে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা দেরি না করে বিষয়টি পার্শ্ববর্তী তালসার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জকে অবহিত করেন।
সংবাদ পেয়ে তালসার পুলিশ ক্যাম্পের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা ওই স্থানে গিয়ে কথিত এনএসআই কর্মকর্তা রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি নিজের এনএসআই সংক্রান্ত পরিচয়পত্র বা স্বপক্ষে কোনো বৈধ প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন এবং তাঁর কথা ও উত্তরের মধ্যে ব্যাপক অসংলগ্নতা দেখা দেয়। এতে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ তাঁকে সাথে সাথে আটক করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এনএসআইয়ের মতো রাষ্ট্রের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধানকারী সংস্থার নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও বিভ্রান্ত করে, তবে তা আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় ধরনের হুমকি। তাঁরা এই ভুয়া কর্মকর্তার প্রকৃত অপরাধের তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক রাকিবুল হাসানকে বর্তমানে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর মাধ্যমে কেউ ইতিপূর্বে কোনো প্রকার প্রতারণা বা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন কি না—তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতারণা ও ভুয়া পরিচয় ধারণের আইনে মামলা রুজু করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।


