স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ের আড়ালে ভয়াবহ মাদক ব্যবসার চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. শফিকুল ইসলামকে (৪৩) ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ওয়াসিম (২৪) নামে এক সহযোগী ও মাদক কারবারিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
২৩ আগস্ট ২০২৬ রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত একাধিক ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেন অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিষযটি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি চালানো হয় উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায়। সেখান থেকে পালানোর চেষ্টাকালে প্রথমে ওয়াসিমকে আটক করে পুলিশ এবং তার হেফাজত থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আজমপুরের একটি ভাড়া বাসায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এএসআই শফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার নিকট থেকে ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
এরপর অভিযানের ধারাবাহিকতায় আজমপুর কাঁচাবাজার সংলগ্ন বিসমিল্লাহ পল্লির ‘নূর বিল্ডিং’-এর ৬৭ নম্বর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৫ হাজার ১১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে টিম দক্ষিণখান। সব মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে গ্রেপ্তার দুই আসামি ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দেশের সীমান্ত ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দক্ষিণখান ও এর আশপাশের এলাকায় খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করতেন।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এমদাদুল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এএসআই শফিকুল দীর্ঘদিন ধরেই থানায় তার অর্পিত দায়িত্ব পালনে অনিয়মিত ও শৃঙ্খলাহীন ছিলেন।ছবি সংগৃহীত।


