পাইকগাছা প্রতিনিধি :
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কপিলমুনিতে এক সৌদি আরবপ্রবাসীর বাসভবনের প্রধান ফটক ও ঘরের ড্রয়ারের তালা ভেঙে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং ল্যাপটপ চুরির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রীর আপন ভাইপো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনায় প্রায় চার লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি ও মালামাল খোয়া গেছে বলে দাবি প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ সলুয়া গ্রামে চুরির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত আল-মামুন ও তাঁর স্ত্রী মরিয়ম বেগমের আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী গৃহবধূ মাহফুজা খাতুন জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী প্রবাসীদের স্বজন মাহফুজা খাতুনের প্রদত্ত বিবরণ অনুযায়ী, আনুমানিক এক মাস আগে তাঁর ভাইপো আল-মামুন ও তাঁর স্ত্রী মরিয়ম বেগম স্বপ্রণোদিত হয়ে তাঁর বাসায় বেড়াতে আসেন। মাহফুজার স্বামী প্রবাসে অবস্থান করায় মেহমানদের থাকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দেন তিনি। এই সুবাদে উভয় পরিবারের মধ্যে পারিবারিক আত্মীয়তার সখ্য গড়ে ওঠে।
মাহফুজা জানান, মর্মান্তিক ঘটনার ঠিক তিন দিন আগে আল-মামুন তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা ধার হিসেবে চেয়েছিলেন। মাহফুজা তাঁকে টাকা প্রদানে সম্মত হলেও নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে অর্থ ফেরতের কঠোর শর্ত জুড়ে দেন। আল-মামুন ধারকৃত টাকা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধে অপরাগতা প্রকাশ করলে মাহফুজা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ আল-মামুন তাঁকে বলেন, “তুই ফুফি, আমার সঙ্গে বেইমানি করেছিস।”
অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, ঘটনার দিন মাহফুজা খাতুন তাঁর সন্তানকে নিয়ে স্থানীয় বিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য যান। সেই সুযোগে আল-মামুন ও তাঁর স্ত্রী মরিয়ম বাড়ির প্রধান গেটের তালা ভেঙে ভেতরের কক্ষে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ঘরে থাকা কাঠের ড্রয়ারের লক ভেঙে নগদ এক লাখ টাকা, একটি মূল্যবান ল্যাপটপ, এক জোড়া সোনার রুলি, দুই জোড়া কানের দুল এবং তিনটি মূল্যবান আংটি হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেন।
সবচেয়ে তাজ্জব ও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, চুরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থান ত্যাগ করার পরই অভিযুক্ত আল-মামুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে ফুফি মাহফুজাকে একটি খুদে বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় বেইমানি করার চরম পরিণতি হিসেবে তাঁর এই বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেগপ্লুত কণ্ঠে মাহফুজা খাতুন জানান, বিপদের দিনে তিনি ভাইপোকে বিশ্বাস করে ঘরে ঠাঁই দিয়েছিলেন। অথচ সেই সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাঁর ঘরেই তালা ভেঙে সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। জমানো নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার সহ আনুমানিক চার লাখ টাকার সম্পদ খোয়া গেছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, অভিযুক্ত আল-মামুনের মূল বাড়ি কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের কাঠচর বেদকাশী গ্রামে এবং তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা জামাল শেখের ছেলে। অপরদিকে তাঁর স্ত্রী মরিয়ম বেগমের বাবার বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর এলাকায়।
চুরির পরপরই বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি সামলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনি মামলা দায়েরের জোর প্রস্তুতি চলছিল। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

