মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একজন কর্তব্যরত প্রাথমিক শিক্ষকের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা, অসত্য অভিযোগে মামলা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন সহকর্মী শিক্ষকরা। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্লাসরুমে ঢুকে একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা করা হলেও উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি নিহার সুলতানা ও সাধারণ সম্পাদক আলী মুর্তজা রেজা ফিটু প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য উপস্থাপন করেন সহকারী শিক্ষক মোরশেদ হোসেন, আবু তাহের, রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।
উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলার বড় বায়শা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে স্কুলের নিজ অফিস কক্ষে ঢুকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বেধড়ক মারধর করে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা যৌথভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মারাত্মক আহত শিক্ষককে উদ্ধার করেন। শরীরের অবনতি ঘটলে ওইদিন সন্ধ্যায় তাঁকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রথমে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির কাল্পনিক অভিযোগ তুলে এই হামলা চালানো হলেও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আহত শিক্ষকের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে প্রকাশ, বিদ্যালয়ের সরকারি পুকুর লিজের অর্জিত টাকা বেআইনিভাবে দাবি করে আসছিলেন রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রভাবশালী সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস হোসেন। সরকারি অর্থ বিধিবহির্ভূতভাবে হস্তান্তর করতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষক শাহ আলমের ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে স্থানীয় চক্রটিকে সাথে নিয়ে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।
তাছাড়া কথিত যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জমাকৃত ‘স্বাক্ষরবিহীন’ একটি চিঠি ও লিখিত আবেদনপত্র নিয়ে শুরু থেকেই দেখা দিয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। উক্ত চিঠির হাতের লেখা স্বয়ং ওই ছাত্রীর নয় বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়েটির নিজ আপন চাচা সৌরভ সরকার। এমনকি এ বিষয়ে বাদীপক্ষ কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করতেও অপারগতা প্রকাশ করেছে। মিথ্যা সাজানো ঘটনা সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়।
এদিকে আহত শিক্ষক শাহ আলমের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা অভিযোগ করে জানান, স্কুলের লিজের টাকার ওপর চোখ পড়েছিল সাবেক মেম্বার ইলিয়াসের। গত দুই সপ্তাহ ধরে টাকা না পেয়ে তাঁরা স্বামীকে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে সৌরভ সরকার ও ইলিয়াস মেম্বার পরিকল্পিতভাবে স্কুলে ঢুকে হামলা চালায় এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে অনৈতিক অভিযোগ তুলে কাল্পনিক নাটক রচনা করে।
তবে ঝিনাইদহের জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানিয়েছেন, ছাত্রীর মায়ের এজাহারের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পেছনে মূল রহস্য কী, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।


