সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার তালায় উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে এনে এক গৃহবধূকে চেতনানাশক খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার মামলায় অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ মোট দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে তালা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—কপিলমুনি কাশিমনগর এলাকার শিপ্রা বিশ্বাস (৩২) এবং দেবব্রত বিশ্বাসের ছেলে অনুপ বিশ্বাস (৩৬)। মামলায় রাজু নামে অপর এক যুবককে প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল রবিবার (১৬ আগস্ট ২০২৬) খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাঠি গ্রামের ওই গৃহবধূ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসাসংক্রান্ত কারণে রাজু নামে এক যুবকের সংগে তাঁর পরিচয় হয়, যে নিজেকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের কর্মচারী বলে দাবি করেছিল। গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে রাজু ওই নারীকে সুচিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে কয়রা থেকে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসেন। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ডাক্তার দেখানো সম্ভব নয় জানিয়ে ভুক্তভোগীকে তালা ব্রিজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণীতে অভিযোগ করা হয়, রাতে ওই বাসার বাসিন্দা শিপ্রা বিশ্বাসের সহযোগিতায় গৃহবধূর খাবারে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। খাবার খেয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়লে অভিযুক্ত রাজু ও তার সহযোগী যুবক ওই গৃহবধূকে দফায় দফায় নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে জ্ঞান ফিরলে এবং ঘটনাটি প্রকাশ করতে চাইলে নিহতের আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
পরদিন ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) সকালে ভুক্তভোগী নারী কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে স্বজনদের সহায়তায় তালা থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দীক জানান, এ ঘটনায় তালা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা (মামলা নং-১০, তারিখ: ১৪ আগস্ট ২০২৬) রজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এজাহারনামীয় বাকি আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।
