খুলনায় ১২ মাদক-ধর্ষণ মামলার আসামি  ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক ৮

খুলনায় ১২ মাদক-ধর্ষণ মামলার আসামি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক ৮

খুলনা প্রতিনিধি :

১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, জনসম্মুখে উপস্থিতি জানান দেওয়া এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীল পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি)। নগরীর বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে খাবার বিতরণকালে সাবেক দুই ছাত্রলীগ নেতাসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য এক অভিযানে ১২টি মাদক ও একটি ধর্ষণ মামলার এক চিহ্নিত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের কয়েকজন সদস্য তেহারী কিনে খালিশপুর আবু নাসের মোড়, গোয়ালখালির মোড় ও দৌলতপুর লেকভিউ রেস্টুরেন্টের সামনে লোক জড়ো করে খাদ্য বিতরণ করে। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ১৫ আগস্টকে পুনর্জাগরিত করার অপচেষ্টা চালায়। বিষয়টি নজরদারিতে আসার পর দৌলতপুর থানা পুলিশ ছবি দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করে গভীর রাতে অভিযান চালায়।

অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় পাবলা কারিকর পাড়ার সাবেক ছাত্রলীগ সদস্য পারভেজ হাসান (২৯) ও পাবলা কেশবলাল রোডের সাবেক ছাত্রলীগ সদস্য মোঃ সাব্বির হোসেন সৈকত (২৮)-কে। এ ঘটনায় অপু নামে অপর এক ব্যক্তি পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, আজ ১৫ আগস্ট সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন পশ্চিম বানিয়াখামার পুরাতন গল্লামারি রোডস্থ পশু হাসপাতালের সামনে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে খাবার বিতরণকালে আরও ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। আটকেরা হলেন— লবনচরা থানার আলী হোসেন (২৪) ও আশরাফুল ইসলাম (২৬), খুলনা সদর থানার মো: ইমন (২৬) এবং সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকার আব্দুস সামাদ (৫২) ও মো: রনি সরদার (২৭)। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এছাড়া গত ১৪ আগস্ট রাত পৌনে ৯টার দিকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশের একটি টিম ছোট বয়রা মার্কেট রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও ধর্ষণ মামলার আসামি মোঃ ইয়ার আল ইনসান চৌধুরী ওরফে পিল্টুকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে ১২টি মাদক ও ১টি ধর্ষণ মামলা রয়েছে। তাঁকে ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

খুলনা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। অপরাধীর রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত পরিচয় যাই হোক না কেন, আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *