বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নবগঠিত উপজেলা কমিটি নিয়ে চরম বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সদ্য ঘোষিত ৪৩ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়ার পরপরই আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কসহ একাধিক দায়িত্বশীল সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) পৃথক প্রেস নোট বার্তার মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের পদত্যাগের এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন অব্যাহতি নেওয়া নেতারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন স্থানীয় প্রধান শিক্ষক অবনী কুমার রায়। একই সাথে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মনিলাল পাল। প্রেস নোটে মনিলাল পাল দাবি করেন, তাঁর মতামত কিংবা কোনো প্রকার আগাম অনুমতি না নিয়েই মনগড়াভাবে কমিটিতে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে ‘কলাপাড়া পূজা উদযাপন ফ্রন্ট’-এর সহসভাপতির দায়িত্ব সুনামের সাথে পালন করছেন বলে জানান।
বিজ্ঞাপন
মনিলাল পাল আরও গুরুতর অভিযোগ এনে বলেন, নতুন কমিটির একাধিক সদস্যকে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আবেগ ও সম্প্রীতিকে কোনোভাবে ক্ষুণ্ন না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেন তিনি।
ঘোষিত এই ৪৩ সদস্যের কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি এই বিতর্কিত কমিটির সব সদস্যকে একযোগে পদত্যাগের আহ্বান জানান। একই সাথে পূজা উদযাপন পরিষদের এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কলাপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ‘পূজা উদযাপন ফ্রন্ট’-এর মাধ্যমে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সব ধর্মীয় উৎসব ও পার্বণ পালিত হয়ে আসছে। এমন অবস্থায় নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পূজা উদযাপন পরিষদের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তবে কমিটি গঠন এবং শীর্ষ নেতাদের অব্যাহতির বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ছবি সংগৃহীত।
