আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান প্রদেশের লিঙ্গি এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশি সহকর্মীদের নিজেদের মধ্যকার সহিংসতায় তিন বাংলাদেশি মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর এক বাংলাদেশি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নির্মম এ ত্রিফল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত এক বাংলাদেশি সহকর্মীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘নিউ স্ট্রেইটস টাইমস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এ খবর নিশ্চিত করা হয়।
নেগেরি সেম্বিলান প্রদেশের পুলিশ প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমদ জানান, গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তামান লিঙ্গি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতি ও রক্তাক্ত সংঘাতের সংবাদ পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খবর পেয়ে লিঙ্গি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে গিয়ে জড়িত সন্দেহজনক এক বাংলাদেশিকে আটক করে। পরবর্তীতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে সুয়া ম্যাঙ্গিস এস্টেট এলাকা থেকে নিখোঁজ বাকি তিন বাংলাদেশির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত প্রত্যেকের শরীরে ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা বস্তুর মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর এক বাংলাদেশিকে দ্রুত উদ্ধার করে রেমবাউ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মর্মান্তিক এ ঘটনায় প্রাণ হারানো, আহত এবং অভিযুক্ত— তারা সকলেই একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন এবং যৌথভাবে একই বাসায় বসবাস করতেন। ঘটনার সূত্রপাত ও হত্যাকাণ্ডের স্থানগুলো ভিন্ন ভিন্ন বলে মনে করছে তদন্তকারী দল। পুরো ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন করতে ব্যাপক তদন্ত চালানো হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত প্রবাসীর পূর্বে কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে পোর্ট ডিকসন বিচারিক আদালতে সোপর্দ করে পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। মালয়েশীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অধীনে (যাহাতে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে) একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে কী কারণে এই নির্মম সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। ছবি ও সূত্র-আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা থেকে সংগৃহীত।

