সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে প্রভাব খাটিয়ে গ্রামপুলিশের পোল্ট্রি ব্যবসা!

সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে প্রভাব খাটিয়ে গ্রামপুলিশের পোল্ট্রি ব্যবসা!

মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) :

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ৯নং বারোবাজারের জরাজীর্ণ ও পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার দুই দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর আগে প্রশাসন ভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন অবাধে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এতে যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ষাটের দশকে বারোবাজার-হাকিমপুর সড়কের পাশে বাজারের প্রাণকেন্দ্রে দোতলা ওই ভবনটি নির্মিত হয়। ভবনের নিচতলায় ইউপির দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং দ্বিতীয় তলায় পুলিশ ফাঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে ২০০৪ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের আমলে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় এবং ২০০৫ সালে নতুন আধুনিক ভবনে ইউপি কার্যালয় স্থানান্তর করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর ইউপিরই এক গ্রাম পুলিশ জামিরুল ইসলাম কোনো অনুমতি বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই গত ১৭ বছর ধরে সেখানে পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। শুধু তা-ই নয়, ভবনের অবশিংশ তাঁর নিকটাত্মীয়দের দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ দখল করে রাখলেও এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো বৈধ বরাদ্দপত্র নেই।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বারোবাজার ইউপির বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসান সাজ্জাদ জানান, জরাজীর্ণ ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য গ্রাম পুলিশ জামিরুলকে একাধিকবার লিখিত নোটিশ ও মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানছেন না। সরেজমিনে উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাধা হয়ে দাঁড়ান বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বারোবাজার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তার সামনে ও ভেতরে প্রতিদিন শত শত মানুষের আনাগোনা থাকে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঘটবে। তাই দ্রুত বাউন্ডারি দিয়ে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা এবং নিয়ম অনুযায়ী সেখানে নতুন মার্কেট নির্মাণ করে বরাদ্দ দেওয়া উচিত।”

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি নিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষে ভবনটির চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ‘প্রবেশ নিষেধ’ সাইনবোর্ড টানানো হবে। একই সাথে সেখানে নতুন ও আধুনিক মার্কেট নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেও গ্রহণ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, বড় ধরনের কোনো ট্র্যাজেডি ঘটার আগেই যেন প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাটি অপসারণ ও উদ্ধার করে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

বারোবাজারে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা

কোটচাঁদপুরে ৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

মাদকমুক্ত কালীগঞ্জ গড়তে পুলিশের পাশে উপজেলা বিএনপি

কোটচাঁদপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অসচ্ছল নারীদের মুখে হাসি

ফাইল-চাবি আঁকড়ে অবসরপ্রাপ্ত বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক !

কোটচাঁদপুরে অসামাজিক কার্যকলাপসহ বিভিন্ন অভিযোগে নারীসহ ৮ জন গ্রেপ্তার

কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান : দুই মাদক কারবারির ৬ মাসের কারাদণ্ড

কোটচাঁদপুরে হোমিও চিকিৎসাকেন্দ্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নারীসহ ৫ জন আটক

কোটচাঁদপুরে পুরুষদের ব্যর্থতায় হাল ধরলেন নারীরা : নবারণ মহিলা সংঘের অনন্য দুর্গাপূজা

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *