ধাওয়া খেয়ে প্রাণভয়ে নদীতে ঝাঁপ !

ধাওয়া খেয়ে প্রাণভয়ে নদীতে ঝাঁপ !

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

মানিকগঞ্জ সদর থানার বিতর্কিত সাগর আহমেদ (২৪) হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), মানিকগঞ্জ জেলা। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের পর তিনি বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সাগর আহমেদ তাঁর বন্ধু শাহরিয়ার আলম স্বাধীনকে (২১) সঙ্গে নিয়ে মানিকগঞ্জের পুটাইলস্থ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এর দুই দিন পর, গত ২৯ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর থানাধীন ভাঁড়ারিয়া ইউনিয়নের বাঘিয়া ঘাটের দক্ষিণ পাশে কালীগঙ্গা নদীর উত্তর তীর থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় সাগরের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি সাগরের বলে নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৪১) দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় গত ৩১ জুলাই পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) মো. ফরহাদ হোসেন মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছেন।

তদন্তভার গ্রহণের পরপরই পিবিআইয়ের একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩১ জুলাই মানিকগঞ্জ সদর থানার নবগ্রাম এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে নিজ বোনের বাড়ি থেকে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি আনোয়ার হোসেন আনুকে (৪১) গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, ২৭ জুলাই রাতে সাগর ও তাঁর বন্ধু স্বাধীন চর ঘোস্তা খেয়াঘাটে গেলে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁদের পথ রোধ করে তল্লাশির নামে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তীব্র আতঙ্কে প্রাণভয়ে সাগর দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা তাকে ধাওয়া করে। আসামিদের তাড়া খেয়ে আত্মরক্ষার্থে সাগর কালীগঙ্গা নদীতে ঝাঁপ দিলে নিখোঁজ হন। স্থানীয় মাঝিরা তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে উদ্ধার করতে পারেননি।

এদিকে আসামিরা সাগরের বন্ধু স্বাধীনকে জিম্মি করে আটকে রাখে এবং তাঁর পরিবারের কাছ থেকে জোরপূর্বক ১০,০০০ টাকা চাঁদা আদায় করে। এ ঘটনা পুলিশ বা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে রাতে স্বাধীনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পিবিআই মানিকগঞ্জ জানায়, ঘটনার সাথে জড়িত এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার আইনগত তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *