স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
আশ্বিনের মেঘলা আকাশ কিংবা শ্রাবণের মুষলধারায় যে মানুষটির প্রজ্ঞা আর ভালোবাসায় নতুন আলো পেয়েছিল দেশের কোটি শিশু, সেই ‘বাংলাদেশের শিশু চিকিৎসাবিদ্যার জনক’ জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফি খানের (ডা. এম. আর. খান) আজ শুভ জন্মদিন।
বিজ্ঞাপন
১৯২৮ সালের ১ আগস্ট সাতক্ষীরার সাধারণ এক মেঠোপথ ঘেঁষা রসুলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই মহীয়সী ব্যক্তিত্ব। তাঁর জন্মতিথি উপলক্ষে ঢাকা, যশোর এবং তাঁর জন্মভূমি সাতক্ষীরায় দোয়া মাহফিলসহ নানা স্মরণসভার আয়োজন করেছে শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন।
বিজ্ঞাপন
সাতক্ষীরার রসুলপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া বাল্যের রফি খান খুব কাছ থেকে দেখেছেন পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে অবোধ শিশুদের অকালমৃত্যু ও পুষ্টিহীনতা। সেখান থেকেই পণ করেছিলেন শিশুদের জন্য জীবন উৎসর্গ করার। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে মহসিন স্কলার হিসেবে পড়ালেখা শেষে ১৯৫২ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস অর্জন করেন। পরবর্তীতে এডিনবরা ও লন্ডন থেকে ডিগ্রি অর্জন এবং ২০১১ সালে বিএসএমএমইউ থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন এই জ্ঞানতপস্বী।
কর্মজীবনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে দেশের প্রথম আলাদা শিশু বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকা শিশু হাসপাতালকে জাতীয় মানের কেন্দ্রে রূপান্তরের মূলে ছিলেন তিনি। ‘বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন’ (BPA), চিলড্রেন হেলথ ট্রাস্ট এবং সেন্ট্রাল হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ডা. এম. আর. খান। দেশে পোলিও নির্মূল এবং সারা দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) সফল করার নেপথ্যে প্রধান কারিগরও ছিলেন তিনি।
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মানবসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি জাতীয় অধ্যাপক পদমর্যাদা, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক এবং আন্তর্জাতিক ‘ASEAN Region Pediatrics Award’-সহ বহু সম্মানে ভূষিত হন। তবে সকল স্বীকৃতির চেয়ে বড় ছিল তাঁর মানবিক হৃদয়। অবসরের পুরো পেনশন ও সম্পত্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘ডা. এম. আর. খান ও আনোয়ারা ট্রাস্ট’। দুস্থ রোগীদের চিকিৎসা ফি মওকুফের পাশাপাশি ওষুধ কেনার টাকা নিজ পকেট থেকে দিয়ে দিতেন তিনি।
২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর দীর্ঘ ৮৮ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি টেনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই মহান শিক্ষক ও চিকিৎসক। আজ ১ আগস্ট তাঁর জন্মদিনে শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে পুরো দেশ। শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ দিনভর ঢাকা, সাতক্ষীরা ও যশোরে দোয়া, আলোচনা সভা ও তবারক বিতরণের মাধ্যমে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

