স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে পৃথক দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক ইন্টারনেট সংযোগ কর্মী এবং এক বৃদ্ধ কৃষকের অকাল মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে যশোর জেলা শহরের জেস্ট টাওয়ারের সামনে বৈদ্যুতিক পোলে উঠে কাজ করার সময় নিচে পড়ে ইন্টারনেটকর্মী এবং কেশবপুর উপজেলায় সকালে বিলে কাজ শেষে ফেরার পথে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু ঘটে।
প্রথম ঘটনাটিতে জানা যায়, বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে যশোর শহরস্থ জেস্ট টাওয়ারের সামনের সড়কে একটি বৈদ্যুতিক পোলে উঠে ইন্টারনেট সংযোগের কাজ করছিলেন ইমরান হোসেন ইমন (২৯) নামের এক প্রযুক্তি কর্মী। কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত মই পিছলে গিয়ে তিনি সজোরে পিচঢালা রাস্তায় পড়ে মারাত্মক জখম হন।
উদ্ধার করে সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ইমনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইমরান হোসেন খুলনা মহানগরীর টুটপাড়া এলাকার আজাহার আলী শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরের মুড়লী মোড় এলাকার একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কেশবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের নতুন মূলগ্রাম এলাকায় বজ্রপাতের শিকার হয়ে জনাব আলী গাজী (৬৫) নামের এক কৃষকের ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। নিহত জনাব আলী ওই গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, মঙ্গলবার ভোরে আর দশটা দিনের মতোই নিজের কৃষিজমিতে পরিচর্যা ও মাছ ধরার তাগিদ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন জনাব আলী গাজী। কাজ শেষে সকালের দিকে যখন প্রচণ্ড মুষলধারে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়, তখন তিনি তড়িঘড়ি করে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে খোলা মাঠের মাঝে সরাসরি বজ্রপাতের শিকার হলে তিনি সেখানেই লুটিয়ে পড়েন ও প্রাণ হারান।
খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশের সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। পৃথক এ দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
